Friday, September 14, 2018

পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর সমস্ত বই প্রকাশের উদ্যোগ পশ্চিমবাংলা সরকার ও পশ্চিমবাংলা সাঁওতালি একাডেমীর।


মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে সাঁওতালি ভাষার অলচিকি হরফের জনক পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর সমস্ত বই প্রকাশের উদ্যোগ পশ্চিমবাংলা সরকার ও পশ্চিমবাংলা সাঁওতালি একাডেমীর।

সাঁওতালি ভাষার অলচিকি হরফের জনক পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর সমস্ত বই প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আদিবাসী দপ্তরের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ সাঁওতালি আকাদেমি এই কাজ শুরু করেছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সাঁওতালি আকাদেমিতে এবিষয়ে একটি বৈঠকে হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর বইগুলি নতুন করে অলচিকি হরফে ছাপিয়ে প্রকাশ করা হবে।
১৯০৫ সালের ৫ মে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার ডাহারডিহি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সাঁওতালি সাহিত্যিক ও দার্শনিক পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু। সাঁওতাল সমাজে তিনি গুরু গমকেনামে পরিচিত। পেশায় শিক্ষক রঘুনাথবাবু মাত্র কুড়ি বছর বয়সে অলচিকি লিপির সৃষ্টি করেন। অলচিকি লিপির প্রচারে তিনি ১৯৬০ সালে আদিবাসী সোসিও এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন’ (অ্যাসেকা) বা আদিবাসী সমাজ শিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তৈরি করেন। ওড়িশা, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে এই সংগঠন ছড়িয়ে পড়ে। তিনি কেবলমাত্র অলচিকিহরফের স্রষ্টা ছিলেন না। কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, যাত্রাপালা রচয়িতা ও বিদগ্ধ দার্শনিক হিসেবেও তাঁর খ্যাতি রয়েছে। সাঁওতালি ভাষায় অলচিকিতে কবিতা, নাটক, উপন্যাস প্রভৃতি মিলিয়ে প্রায় ১৫০টি গ্রন্থ তিনি রচনা করেছিলেন। তাঁর লেখা উল্লেখ্যযোগ্য কাব্যগুলি হল- হড় সেরেঞ্জ’, ‘হিতল’, ‘বাহা সেরেঞ্জনাটকগুলির মধ্যে অন্যতম বিন্দু চাদান’, ‘দাড়েগে ধন’, ‘খেরওয়াল বির১৯৮২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।
গত বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দপাধ্যায়ের উদ্যোগে সাঁওতালি ভাষা থেকে বাংলা ও ইংরেজিতে অভিধান বের করেছে রাজ্য সরকার। গত আগস্ট মাসে বিশ্ব আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসীদের উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ঝাড়গ্রামে, বাঁকুড়ার খাতড়ায় এবং পুরুলিয়ায় দুটি করে সাঁওতালি মিডিয়াম স্কুল করা হবে। তিনি ২০০ জন সাঁওতালি শিক্ষক নিয়োগ করার কথা বলেন। যাতে অলচিকি হরফে স্কুলগুলিতে আরও ভালো পঠনপাঠন হয়। তিনি বলেন, আদিবাসীদের জন্য এর আগে কেউ কিছু করেনি। আমরাই স্কুল তৈরি করেছি। এখন নবম-দশম শ্রেণী পর্যন্ত হয়েছে। আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয় হবে। অনুষ্ঠানে সাঁওতালি সাহিত্যিক খেরওয়াল সরেনকে সংবর্ধনা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরই অলচিকি হরফের জনক পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর সমস্ত বই প্রকাশ করার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার।
সম্প্রতি ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু ট্রাস্টকে চিঠি দিয়ে তাঁর রচনাবলী বের করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। তারপরই পশ্চিমবঙ্গ সাঁওতালি আকাদেমির চেয়ারম্যান তথা নয়াগ্রামের বিধায়ক দুলাল মুর্মু সহ সংস্থার সদস্যরা গত ৮ সেপ্টেম্বর ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার ডাহারডিহি গ্রামে যান। সেখানে রঘুনাথবাবুর নাতি চুনিয়ন রঘু মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেন। রাজ্য সরকারের তরফে তাঁর নাতিকে পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর লেখা বিভিন্ন রচনা দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। আকাদেমির চেয়ারম্যান দুলাল মুর্মু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগ নিয়েছেন পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর সমস্ত রচনা রাজ্য সরকার প্রকাশ করবে। তাঁর রচনাবলী অলচিকি হরফে ছাপানো হবে। এতে আদিবাসী মানুষজন ও পড়ুয়ারা পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর বিভিন্ন নাটক, উপন্যাস, কবিতা পড়তে পারবেন।
সৌজন্য – বর্তমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮।

Thursday, September 13, 2018

বীরভূমে পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান পদে তৃণমূলের প্রথম পছন্দ ‘আদিবাসী’ জনপ্রতিনিধিরা।


বীরভূম জেলায় পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান পদে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম পছন্দের তালিকায় ‘আদিবাসী’ জনপ্রতিনিধিরা।

বীরভূম জেলায় পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনে আদিবাসী জনপ্রতিনিধিদের সামনের সারিতে আনছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রে খবর, প্রধান ও উপপ্রধান পদে প্রাধান্য পাচ্ছেন আদিবাসী প্রার্থীরাই। কোনও ক্ষেত্রে প্রাক্তন প্রধানদের পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সদস্য হিসেবেই রাখা হচ্ছে। প্রধান বা উপপ্রধান পদে নির্বাচিত করা হচ্ছে আদিবাসী জনপ্রতিনিধিদের। বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কের দিকে তাকিয়েই এমন পদক্ষেপ করছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
বীরভূম জেলার তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের একাংশের বক্তব্য, পঞ্চায়েত নির্বাচনে মহম্মদবাজার ব্লকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বিজেপির মিছিলে বেশির ভাগ ছিলেন আদিবাসী পুরুষ, মহিলা। তাঁদের হাতে থাকা তির, ধনুকের মোকাবিলাকরতে বেগ পেতে হয় শাসক দলকেও। ভোটের ফলাফলে রাজ্যের আদিবাসী জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় তৃণমূলের ফল খারাপ হয়েছে। ব্যতিক্রম নয় বীরভূমও।
ভোটের ফলপ্রকাশের পরেই তা-ই আদিবাসীদের সামনের সারিতে নিয়ে আসতে তৎপর হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় সূত্রে খবর, সেই কারণেই মহম্মদবাজারে আদিবাসী সম্মেলন করা হয়েছে। সাঁইথিয়া, বোলপুরে আদিবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।
শুক্রবার ১৪ ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ রামপুরহাট ১ ব্লকের ৯টি অঞ্চলে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত করা হবে। গত বৃহস্পতিবার ১৩ ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ সকালে রামপুরহাট ১ ব্লক নেতৃত্ব ৯টি অঞ্চলের নির্বাচিত পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা রামপুরহাট মহকুমা পর্যবেক্ষক ত্রিদিব ভট্টাচার্য। দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে রামপুরহাট ১ ব্লকের ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে কারা প্রধান ও উপপ্রধান হবেন, সেই তালিকা নির্বাচিত সদস্যদের জানিয়ে দেওয়া হয়। জানিয়ে দেওয়া হয় প্রধান ও উপপ্রধানদের নামের প্রস্তাবক, সমর্থনকারীদের নামও।
তালিকা অনুযায়ী রামপুরহাট ১ ব্লকের মাসড়া পঞ্চায়েতে প্রধান এবং উপপ্রধান পদে বসতে চলেছেন আদিবাসী জনজাতির প্রতিনিধিই। মাসড়া পঞ্চায়েতে ৩৬টি গ্রামের মধ্যে ৩৩টি আদিবাসী অধ্যুষিত। সেখানে পঞ্চায়েতে নির্বাচিত ১০ সদস্যর মধ্যে ৭ জন আদিবাসী, ২ জন তফসিলি এবং এক জন সাধারণ। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পঞ্চায়েতে প্রধান হওয়ার কথা ছিল প্রাক্তন প্রধান রেজাউল করিমের। উপপ্রধান পদে নাম এসেছিল আদিবাসী এক পঞ্চায়েত সদস্যের। কিন্তু জেলা নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে মাসড়া অঞ্চলে প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে দিলীপ কিস্কুকে। উপপ্রধান হবেন পার্বতী হেমব্রম। নারায়ণপুর, কুশুম্বা পঞ্চায়েতে উপপ্রধান হতে চলেছেন আদিবাসী জনপ্রতিনিধিই। বুধবার নলহাটি ১ ব্লকে ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন করা হয়। বানিওড় ও হরিদাসপুরে উপপ্রধান হয়েছেন আদিবাসী প্রতিনিধিই।
এ নিয়ে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, আদিবাসী মানুষ এখন তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়েছেন। তাঁদের ফের নিজেদের দিকে টানতেই এমন পদক্ষেপ করছে তৃণমূল। জেলার আদিবাসী নেতা রবীন সরেন বলেন, ‘‘আদিবাসী প্রতিনিধিদের প্রধান, উপপ্রধান করা হচ্ছে। এটা ভালো দিক। আদিবাসী জনজাতির উন্নয়নের দিকে সরকারকে আরও বেশি নজর দিতে হবে।’’ তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক  তথা রামপুরহাট মহকুমা পর্যবেক্ষক ত্রিদিব ভট্টাচার্য এ নিয়ে বলেন, ‘‘বেশির ভাগ পঞ্চায়েতে প্রধান ও উপপ্রধান পদ সংরক্ষিত। সংরক্ষণ নীতি মেনেই কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান এবং উপপ্রধান করা হয়েছে আদিবাসী জনপ্রতিনিধিদের। যেখানে সবাই তৃণমূলের সেখানে মন পাওয়া বা না পাওয়ার কী রয়েছে?’’
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮। ছবি – প্রতীকী (সংগৃহীত)

ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদে সভাধিপতি মাধবী বিশ্বাস ও সহ-সভাধিপতি নির্বাচিত হলেন মধুসূদন সরেন।


গত বুধবার ১২ ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ নবগঠিত ঝাড়গ্রাম জেলার জেলা পরিষদ গঠিত হল। সভাধিপতি নির্বাচিত হলেন লালগড় থেকে নির্বাচিত মাধবী বিশ্বাস ও সহ সভাধিপতি নির্বাচিত হয়েছেন নয়াগ্রাম থেকে নির্বাচিত মধুসূদন সরেন। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জেলা শাসক আয়েশা রানী।
শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় তার বক্তব্যে বলেন যে জঙ্গলমহলকে অশান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। ঝাড়খণ্ড থেকে লোক ঢুকছে। এজন্য সতর্ক থাকতে হবে। অনেক প্রলোভন আসবে, কিন্তু সেসব সাময়িক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিগত দিনেও সংগ্রামে ছিলেন, আজও আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। পার্থবাবু বলেন, ঝাড়খণ্ড থেকে যারা আসছে তারা কারা? টাকার থলি নিয়ে আমাদের দলের লোককে আটকে রাখার চেষ্টা করছে। আবার খুনোখুনি চলে আসছে। আদিবাসীদের ভুল বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে। রক্তস্নাত জঙ্গলমহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কঠোর পরিশ্রম করে শান্তি এনেছেন। এরা আবার সেই দিনকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। লক্ষ্য রাখবেন, আমাদের সম্প্রীতি নষ্ট না হয়। অনেক দুষ্টু বন্ধুরা এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করে সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা করছে। উন্নয়নকে স্তব্ধ করে দিতে চাইছে। তাই সাবধান ও সর্তক থাকতে হবে। দেশ ও রাজ্যকে বিপন্ন করা যাবে না। পিছিয়ে পড়া মানুষকে সামনে নিয়ে আসতে হবে।
পদাধিকারী নির্বাচিত হওয়ার পরে জেলা পরিষদ ভবনের সমানে সভাধিপতি, সহ-সভাধিপতি ও সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন পার্থবাবু। দুনীর্তিমুক্ত জেলা পরিষদ গঠনের কথা বলেন তিনি। পার্থবাবু বলেন, মানুষের পাশে যান, মানুষের যেখানে দুর্দশা রয়েছে, তার সমাধানে ব্রতী হন। মানুষের কথা শুনবেন, মানুষের কাজ করবেন, মানুষের কথা ভাববেন। তিনি বলেন, যাদের বাড়ি নেই, সরকার বাড়ি করে দিচ্ছে। কিন্তু বাড়ি তৈরির সমস্ত টাকা তাঁদের হাতে ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে না। ১০০ দিনের কাজের পুরো টাকা পৌঁছচ্ছে না বলে অনেকে বলছেন। এগুলো সব বন্ধ করে দিতে হবে। শুধু পূর্ত ও অর্থ দেখে বাড়ি চলে গেলে হবে না। সামগ্রিকভাবে সব দেখতে হবে। কাজ করে বাড়িতে বসে থাকা আমরা সহ্য করব না। জেলা পরিষদে নতুন যাঁরা এলেন, তাঁদের দায়িত্ব অনেক বেশি। কোনও কম্প্রোমাইজ হবে না। কোনও অসুবিধা হলে ডিএম ও এসপিকে জানাবেন। আপনাদের উপর জঙ্গলমহলের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
এদিন ঝাড়গ্রাম পুরসভার ভবন উদ্বোধন করে পার্থবাবু বলেন, ভবনটি থেকে কোনওরকম অভিযোগ যেন না আসে। স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করুন, সময়ের সঙ্গে আসুন। সরকার পুরসভার মাধ্যমে কী কী পরিষেবা মানুষকে দেয়, তা এখানে টাঙাবেন, যাতে মানুষ জানতে পারেন।
ঝাড়গ্রামের বেতকুন্দরিতে গ্রামীণ সড়ক সপ্তাহে ১০০দিনে ১০০ কিমি রাস্তা তৈরির শিলান্যাস করেন পার্থবাবু। পরে ঝাড়গ্রাম শহরে পুলিসের উদ্যোগে একটি ট্রমা অ্যাম্বুলেন্স ও দুটি অ্যাম্বুলেন্সের উদ্বোধন করেন। স্কুল শিক্ষকদের টিউশনি পড়ানোর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের পার্থবাবু বলেন, গোপনে টিউশনি না পড়িয়ে শিক্ষকরা যাতে বিদ্যালয়ে ঠিকমতো পড়ান, সেদিকে নজর দিতে হবে।
সৌজন্য – বর্তমান, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮।

কৃষকদের উপার্জন দ্বিগুণ করতে মন্ত্রিসভায় নয়া প্রকল্পের অনুমোদন করল মোদি সরকার।

আগামী ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের উপার্জন দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় নতুন একটি প্রকল্পের অনুমোদন করল মোদি সরকার। প্রধানমন্ত্রী অন্নদাতা আয় সংরক্ষণ অভিযান। সংক্ষেপে পিএম-আশা। যেখানে কৃষকদের যাতে কোনওভাবেই অভাবী বিক্রিতে বাধ্য হতে না হয় তার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকার ঘোষিত নূন্যতম সমর্থন মূল্যের চেয়ে বাজারদর কম থাকলে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল কিনে নেবে সরকার। এ ব্যাপারে বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগও চাইছে কেন্দ্র। উৎপাদিত ফসলের দাম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কৃষকদের যাতে কোনও চিন্তা করতে না হয়, তারই লক্ষ্যে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে পিএম-আশাপ্রকল্পের জন্য ১৫ হাজার ৫৩ কোটি টাকা অনুমোদন করল।
চাষের খরচ কমানো, উৎপাদনের পর ফসল ঠিক মতো বিক্রির ব্যবস্থায় উপযুক্ত বাজার তৈরির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিচাই যোজনা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, সয়েল হেলথ কার্ড, প্রধানমন্ত্রী কৃষি বিকাশ যোজনার মতো প্রকল্প নিয়েছে কেন্দ্র। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসায় পর পরই এগুলি শুরু হয়েছে। কিছু পুরনো প্রকল্প নতুন নামেও বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও কৃষক আত্মহত্যা রোখা যায়নি। অভাবী বিক্রির খবরও আসছে দিল্লিতে। এদিকে, আগামী ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকের উপার্জন দ্বিগুণ করার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারই লক্ষ্যে আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় নতুন ওই প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হল।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সরকারি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রাইস সাপোর্ট সিস্টেম, প্রাইস ডেফিসিয়েন্সি পেমেন্ট স্কিম এবং পাইলট অব প্রাইভেট প্রকিওরমেন্ট অ্যান্ড স্টকলিস্ট স্কিম, এই তিনটিকে এক ছাতার নীচে আনা হবে। সরকার জানিয়েছে, পিএম-আশা প্রকল্পে ধান, গম, তৈলবীজ, দানাশস্য, পাট এবং তুলো যাতে কোনওভাবে নষ্ট না হয়, কৃষককে অভাবী বিক্রিতে বাধ্য হতে না হয়, তার জন্য কেবল কৃষিমন্ত্রকই নয়। খাদ্য ও গণবণ্টনমন্ত্রক, বস্ত্রমন্ত্রকও এই ব্যাপারে বাড়তি উদ্যোগ নেবে। কৃষি উৎপাদন সংগ্রহে বেসরকারি উদ্যোগকে জুড়তে হবে। সরকার নির্ধারিত নূন্যতম সহায়ক মূল্যে তারা খাদ্যশস্য সংগ্রহ করবে।
সৌজন্য – বর্তমান, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮।

Tuesday, September 11, 2018

উন্নয়নের অস্ত্রেই ত্রিপুরার আদিবাসীদের পৃথক তিপ্রাল্যান্ডের দাবি মেটাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।


শরিক দল আইপিএফটি-কে সঙ্গে নিয়ে ছমাস ঘর করে ফেলেছেন ত্রিপুরার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। মন্ত্রিসভায় রয়েছেন আইপিএফটি-র দুই মন্ত্রীও। শরিক এই আদিবাসী জনভিত্তি দলের অন্যতম দাবি হল পৃথক আদিবাসী রাজ্য তিপ্রাল্যান্ড গঠন। অন্য দিকে, ত্রিপুরার বাঙালি ভাবাবেগের কথা মাথায় রাখলে রাজ্য বিজেপির পক্ষে সেই পথে হাঁটা কার্যত অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে সরকারের প্রথম ছমাসের মাথায় তিপ্রাল্যান্ডের প্রশ্নে বিপ্লববাবুর দাবি, ‘‘আমাদের কমিউনিস্ট বন্ধুরা ভোটের আগে বলতেন আইপিএফটি এসে রাজ্য ভাগ করবে। আসলে এমন কিছু নেই। প্রত্যেকটি দলের রাজনৈতিক বিষয়সূচি থাকে। আর্থ-সামাজিক, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আমাদের যৌথসূচি আমরা স্বাক্ষর করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে পাঠিয়ে দিয়েছি। এর পর কেন্দ্র যা পদক্ষেপ করবে।”
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর মতে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে বাঙালি-অবাঙালির (আদিবাসী) মধ্যে কোনও ভেদাভেদ নেই। সেই ভেদাভেদ তৈরি করা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বারবার উল্লেখ করার অর্থ হল সাম্প্রদায়িক অশান্তিকে জিইয়ে রাখা। কিন্তু রাজ্য সরকারের লক্ষ্য হল সকলের উন্নতি। উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের অসন্তোষ দূর করা হবে।
আর তাই ক্ষমতায় এসে চাকরি দেওয়ার পথে হাঁটার চেষ্টা করছে বিজেপি পরিচালিত বিপ্লব দেবের সরকার। দুর্নীতির অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে আগের সরকারের আমলে তৈরি নিয়োগ প্যানেল। অভিযোগ ছিল, বাম আমলে তৈরি হওয়া ওই প্যানেল মূলত দলীয় ক্যাডারদের চাকরি দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লববাবু বলেন, ‘‘শিক্ষা-স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বহু পদ ফাঁকা রয়েছে। ১৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করবে সরকার। শিক্ষক পদে আবেদনকারীদের বিএড যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। তাই ওই পাঠ্যক্রম পড়ার জন্য ঋণের ব্যবস্থা করেছে সরকার।” কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতরে। বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে মহিলা নিয়োগে। রাজ্যে মহিলাদের স্বশক্তিকরণের লক্ষ্যে পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র দফতরে মহিলাদের জন্য ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার।
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, অনমিত্র সেনগুপ্ত, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮।

Thursday, September 6, 2018

SC/ST অত্যাচার নিরোধক আইন পুনরায় কঠোর করার বিরুদ্ধে ০৬/০৯/২০১৮ ভারত বনধ।


SC/ST অত্যাচার নিরোধক আইন পুনরায় কঠোর করার বিরুদ্ধে ০৬ ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ভারত বনধ পালন উচ্চবর্ণদের সংগঠনগুলির।

তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি অত্যাচার নিরোধক আইন, ১৯৮৯ বা The Scheduled Castes And The Scheduled Tribes (Prevention Of Atrocities) Act, 1989 পুনরায় সংশোধন করে পূর্বকার অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিরুদ্ধে গত ৬ ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ভারত বন ধের ডাক দিয়েছিল উচ্চবর্ণদের কয়েকটি সংগঠন। এই সংশোধনীর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাণ্ডব চালাল উচ্চবর্ণের একাধিক সংগঠন। উচ্চবর্ণ সংগঠনগুলির ডাকা ভারত বন্‌ধে বিহার, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান-সহ একাধিক রাজ্যে গোলমাল ছড়ায়। ভোটের আগে উচ্চবর্ণের এই বিক্ষোভ চিন্তা বাড়িয়েছে বিজেপির।
মধ্যপ্রদেশ, বিহার, উত্তরপ্রদেশের নানা জায়গায় টায়ার, কুশপুতুল পোড়ানো হয়। রেল অবরোধ হয়। বহু জায়গায় ক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপি নেতারা। মার খান বিহারের সাংসদ পাপ্পু যাদব। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড ও মহারাষ্ট্রেও বিক্ষিপ্ত গোলমাল হয়। রাজস্থানে তিন ধর্মঘটী গ্রেফতার হন।
সব চেয়ে বেশি অশান্তি হয়েছে বিহারে। জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হয় দোকান। রেললাইন অবরোধ করা হয়। মুজফ্‌ফরপুরে হেনস্থার মুখে পড়েন জন অধিকারী পার্টির প্রধান ও বিহারের সাংসদ রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদব। গুরুতর জখম পাপ্পু বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন, ‘‘ওরা জাত জানতে চাইল। মুখ খুলতেই মার।’’ পটনায় বিহার বিজেপির সদর দফতরও ঘেরা হয়।
মধ্যপ্রদেশে কিছু দিন ধরেই মোরেনা, ভিন্দ, গ্বালিয়র, মন্দসৌর প্রভৃতি জায়গায় বিক্ষোভ চলছিল। আগেই কিছু জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি হয়। মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল উত্তরপ্রদেশ। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানান, এই ভারত বন্‌ধের মানে নেই। সংশোধিত আইনের যাতে অপব্যবহার না হয়, খেয়াল রাখবে তাঁর সরকার। জাতীয় তফশিলি কমিশনের চেয়ারম্যান রামশঙ্কর কাঠেরিয়ার অভিযোগ, একটি বিশেষ গোষ্ঠী একই সঙ্গে তফশিলি ও উচ্চবর্ণের আন্দোলনে ইন্ধন দিয়ে আখেরে বিজেপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
মধ্যপ্রদেশজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি। মোতায়েন রয়েছে ৩৪ কোম্পানি নিরাপত্তাবাহিনী এবং ৫০০০ নিরাপত্তাকর্মী। স্থগিত ইন্টারনেট এবং মোবাইল পরিষেবা। বিহার, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশে বন্ধ দোকানপাট, স্কুল, কলেজ সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ দেখান শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীরা। ভোপালে পেট্রোল পাম্পগুলি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত খোলা রাখার কথা জানানো হয়েছে পাম্প কর্তৃপক্ষের তরফে।
গ্বালিয়রে নজরদারি চালাচ্ছে ড্রোন। বিহারের মোকামায় বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। আরা, দ্বারভাঙা, মুঙ্গেরের মসুদনে ট্রেন অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। মধ্যপ্রদেশ এবং বিহারে রেললাইনজুড়ে কড়া নিরাপত্তা জারি হয়েছে। রাজস্থানের কোটায় বন্‌ধ সমর্থকরা সাধারণ মানুষের হাতে ফুল দিয়ে তাঁদেরও বন্‌ধ সমর্থনের আবেদন জানান। মধ্যপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান পুরো পরিস্থিতি হেলিকপ্টারে পরিদর্শন করেন। মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশে বিক্ষোভকারীরা সরকারের কুশপুতুল পোড়ায়।
বিহারে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বাসভবনের সামনেও বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেন বনধ সমর্থকেরা। আগাম সতর্কতা হিসেবে এদিন বিহারের সব স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছিল। এছাড়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও বনধের ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
গোটা মধ্যপ্রদেশেই এদিন বন্ধ পালিত হয়। সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান আগেই হুমকি দিয়েছিলেন, তিনি থাকতে রাজ্য থেকে সংরক্ষণ তুলে দেওয়া যাবে না। যদিও রাজ্যবাসীর উদ্দেশে তিনি বার্তা দিয়েছিলেন, ‘মধ্যপ্রদেশ শান্তির জায়গা। আমি আশা করব আমরা সবাই মিলে রাজ্যের সেই শান্তি বজায় রাখব। তাই কারও যদি কোনও বক্তব্য থাকে তাহলে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলুক। আমার কাছে আসার রাস্তা সবসময়েই খোলা।ভিন্দ, শিবপুরী, গোয়ালিয়রের মতো বেশ কয়েকটি জেলায় আগাম সতর্কতা হিসেবে আগে থেকেই স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবেই রাজ্যে বন্ধ পালিত হয়েছে। কোনও জায়গা থেকে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি।
ব্রহ্মা সমাগম স্বর্ণ জনকল্যাণ সংগঠনের জাতীয় সভাপতি ধর্মেন্দ্র শর্মা বলেন, মোট ১৫০টি সংগঠন এই বনধের ডাক দিয়েছে বলে তিনি জানান। গোটা রাজ্যেই বনধের খুব ভালোমতো সাড়া মিলেছে বলে শর্মা দাবি করেন। বিশেষ করে কাটনি, বিদিশা, সেহোর, দেওয়াস, ইন্দোর, গোয়ালিয়র, ঝাবুয়া, ছাত্তারপুর, মন্দসৌর, সাগর, উজ্জয়ীন প্রভৃতি শহরে পুরোপুরি বন্ধ পালন করা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও ছিন্দওয়াড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা কালো পোশাক পরে প্রতিবাদ জানান। পুলিস সুপার অতুল সিং বলেন, আগে থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন ছিল।
এই বনধের বিরোধিতা করেও গোয়ালিয়র, ভোপাল এবং অন্যান্য শহরে মানুষকে রাস্তায় নামতে দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বিরোধীরা তাঁদের মাথার টুপিতে লেখেন, ‘আমিই সেই মায়ের ছেলে। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন, ‘আমি থাকতে কোন মায়ের ছেলের এত ক্ষমতা যে সংরক্ষণ তুলে দেবে।এদিন বনধের সমর্থনে বেশ কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীর সেই মন্তব্যকে ইঙ্গিত করে প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন। উল্লেখ্য, রাজ্য পুলিসের ইন্টেলিজেন্স বিভাগের আইজি মকরন্দ দিউসকর বুধবারই জানিয়েছিলেন, আগাম সতর্কতা হিসেবে রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ৩৪ কোম্পানি বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
(ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, বর্তমান পত্রিকা ও আজকাল পত্রিকা। ০৭/০৯/২০১৮।  

পুরুলিয়ার মানবাজারে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক জাতীয় পুরস্কারে পুরস্কৃত।


এবার এই রাজ্য থেকে ৫ সেপ্টেম্বর  শিক্ষক দিবসে জাতীয় শিক্ষকের সম্মানের জন্য নির্বাচিত হলেন পুরুলিয়ার আদিবাসী অধ্যুষিত মানবাজার এক নম্বর ব্লকের গোবিন্দপুর প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক অমিতাভ মিশ্র। এই রাজ্যে তিনিই একমাত্র শিক্ষক, যাকে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক এই সম্মানের জন্য বেছে নিয়েছেন। গোটা দেশ থেকে এবার এই সন্মান পাচ্ছেন ৪৫ জন শিক্ষকশিক্ষিকা। সেই তালিকায় পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত এলাকার এই শিক্ষকের নাম নির্বাচিত হতেই খুশি জেলার শিক্ষক মহল থেকে শিক্ষা অনুরাগীরা। মানবাজারের গোবিন্দপুর প্রাথমিক স্কুল গোটা দেশের কাছে পরিচিত। স্কুলকে নির্মল বিদ্যালয়, শিশু মিত্র, যামিনী রায়, রাজ্য সেরা বিদ্যালয় ও দেশের সেরা সম্মান স্বচ্ছ বিদ্যালয়ের পুরস্কার এনে দেওয়া ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমিতাভ মিশ্র এবার নিজে পাচ্ছেন শিক্ষকতার সেরা সম্মান রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। গত রবিবার ০২/০৯/২০১৮ পুরস্কার নিতে দিল্লি রওনা হয়েছিলেন তিনি। যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘‌স্কুলের জন্য প্রায় সব পুরস্কার এনেছি। এবার নিজে শিক্ষকতার সেরা সন্মান নিতে যাচ্ছি। খুব ভাল লাগছে। যে কোনও শিক্ষকের কাছে এই সম্মান জীবনের সেরা সম্মান।’‌ তিনি আরও বলেন, ‘‌রাজ্য থেকে আমি একা এই পুরস্কার পাচ্ছি। সত্যি ভাল লাগছে। কারণ আমি না পেলে খুব খারাপ লাগত, কারণ রাজ্য থেকে আর কেউ পুরস্কারপ্রাপকদের মধ্যে নেই।’‌ দেশে এমন রাজ্য অনেক আছে, যে সব রাজ্য থেকে একজনও এবার এই পুরস্কার পাচ্ছেন না। পুরুলিয়ার জেলাশাসক অলোকেশপ্রসাদ রায় বলেছেন, ‘‌এটা আমাদের কাছে আনন্দের বিষয়। রাজ্য থেকে একমাত্র অমিতাভবাবুই এই সম্মান পাচ্ছেন। তাঁর এই কৃতিত্বে আমরা গর্বিত।’‌
অমিতাভবাবু পুরুলিয়ার গোবিন্দপুর স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ২০০৬ সালে। তখন কয়েকজন পড়ুয়াকে নিয়ে স্কুল ভাঙাচোরা অবস্থায় ছিল। আজ স্কুল দেখলে মনে হবে বিদেশের কোনও অত্যাধুনিক একটি স্কুল। বর্তমানে এই স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১১৮ জন। আদিবাসী অধ্যুসিত গ্রামে স্কুলের পড়ুয়াদের দেখলে যে কেউ অবাক হয়ে যাবেন। স্কুলের চেহারা বদলে দেওয়া শিক্ষককেই এবার দেওয়া হচ্ছে শিক্ষকতার সেরা সম্মান। স্থানীয় বাসিন্দা সমাজসেবী মনোজ মুখার্জি বলেন, ‘‌অমিতাভবাবুর জন্য ওই এলাকায় শিক্ষায় একটা বিশাল পরিবর্তন এসেছে। তাঁর স্কুল দেখলে যে কেউই মুগ্ধ হয়ে যাবেন।’‌
গত বুধবার ০৫ ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ জাতীয় শিক্ষক দিবসে নয়াদিল্লির বিজ্ঞানভবনে উপরাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডুর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। ছিলেন মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর প্রমুখ। এ দিন সম্মানিত হওয়া শিক্ষক শিক্ষিকাদের হাতে পঞ্চাশ হাজার টাকা, রৌপ্য পদক ও শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
আগের দিন মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ বার জাতীয় শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হন। প্রধানমন্ত্রী অমিতাভ মিশ্রকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর সঙ্গে তোলা ছবি টুইট করেন। তিনি টুইটে লেখেন —‘‘বাসিন্দাদের উৎসাহীত করে তিনি স্কুলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন। তিনি প্রান্তিক এলাকার পড়ুয়াদের ক্লাসের পরে, এমনকী ছুটির দিনেও পড়ান শুনে খুশি হয়েছি।’’
বস্তুত, মানবাজার ১ ব্লকের এই স্কুল ইতিপূর্বেই নির্মল বিদ্যালয়, যামিনী রায় পুরস্কার, শিশুমিত্র পুরস্কার প্রভৃতি স্বীকৃতি পেয়েছে। এ বার তাই মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক থেকে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিতাভবাবুকে জাতীয় শিক্ষকের স্বীকৃতি দেওয়ার কথা শোনার পর থেকেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে এলাকায়। এ দিন সম্মানপ্রাপ্তির পরে নয়াদিল্লি থেকে তিনি বলেন, ‘‘মঙ্গলবার আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এক চা চক্রে মিলিত হয়েছিলাম। সেখানে অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে কিছুক্ষণ কথা বলেন। আমাদের স্কুলে আদিবাসী পড়ুয়া কত জন, তাদের কী ভাবে পাঠ দেওয়া হয়, এই সব বিষয়ে জানতে চান তিনি। পরে পিছিয়ে থাকা জনজাতির পড়ুয়াদের আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।’’
মানবাজার শহর থেকে তিন কিমি দূরে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় স্কুলটি অবস্থিত। পড়ুয়ার সংখ্যা ১১৮। প্রধান শিক্ষক ও দুই শিক্ষিকা রয়েছেন স্কুলে। পড়ুয়াদের ৯৫ শতাংশ আদিবাসী। মন্দির ও আশ্রমের মিশেলে স্কুলটি গড়া হয়েছে। স্কুলে মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্যে দূরবীন থেকে সৌর শক্তির বিদ্যুতের ব্যবস্থা, পরিশোধিত পানীয় জলের ব্যবস্থা থেকে পাখিরালয় পর্যন্ত রয়েছে। স্কুল-পত্রিকা রয়েছে। সেখানে নিয়মিত কচিকাঁচাদের লেখা প্রকাশিত হয়। পড়ুয়ারাই বাড়িতে শৌচালয় গড়া, খাবার আগে হাত ধোয়ার কথা বলে গ্রামেও পরিবর্তন এনেছে। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে অমিতাভবাবু বলেন, ‘‘এই স্বীকৃতি শুধু আমার নয়, স্কুলের সব শিক্ষক, পড়ুয়াদেরও। সবাই মিলে আমরা স্কুলের সঙ্গে এলাকার পরিবর্তনের কাজ করে যাচ্ছি।’’
সৌজন্য – আজকাল ও আনন্দবাজার পত্রিকা।