Sunday, July 28, 2019

পশ্চিম মেদিনীপুরে ডাইন অপবাদে আদিবাসী দম্পতির উপর অত্যাচার চালানোর অভিযোগ।


ডাইন অপবাদ দিয়ে এক আদিবাসী দম্পতির উপর অত্যাচার চালানোর অভিযোগ উঠল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সদর ব্লকের গুড়গুড়িপালের শিরিষডাঙায়। অভিযোগের তির পরিজনেদেরই একাংশের বিরুদ্ধে। গত শনিবার ২৭/০৭/২০১৯ এই ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের হয়েছে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, ‘‘বিষয়টি নজরে এসেছে। উপযুক্ত পদক্ষেপই করা হচ্ছে।’’
পুলিশের কাছে শিরিষডাঙার বাসিন্দা গুরুদাস মান্ডি অভিযোগ দায়ের করে জানিয়েছেন, দিন কয়েক ধরে ডাইন অপবাদ দিয়ে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রী বুধন মান্ডির উপর অত্যাচার চালাচ্ছেন তাঁরই ভাই রঘুনাথ মান্ডি-সহ কয়েকজন। তাঁদেরকে ঘরছাড়াও করা হয়েছে। কিছুটা দূরে এক আত্মীয়ের ঘরে আছেন গুরুদাসরা। গুরুদাসের দাবি, দিন কয়েক আগে ভাই তাঁদের কেশিয়াড়ির খড়িকার কাছে এক গুণিনের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। ওই গুণিন তাঁদের ডাইন ঠাওরেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের একাংশের অনুমান, ঘটনার পিছনে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ থাকতে পারে। গুরুদাসেরও অভিযোগ, ‘‘আমাদের ঘর থেকে তাড়িয়ে যাবতীয় সম্পত্তি দখল করতেই এ সব করছে ভাই।’’
স্থানীয় সূত্রে খবর, রঘুনাথের ছেলে জ্বরে ভুগছিল। ডাক্তার দেখিয়েও জ্বর সারেনি। এরপরই গুরুদাস এবং বুধনকে ডাইন সন্দেহ করেন রঘুনাথ। জোর করেই দাদা-বৌদিকে গুণিনের কাছে নিয়ে যান। আগামী সপ্তাহে ওই গুণিনের না কি শিরিষডাঙায় আসার কথাও রয়েছে।
ডাইন অপবাদে মারধর, নির্যাতনের ঘটনা হামেশাই সামনে আসে। এই কুসংস্কারে দাঁড়ি টানতে সরকারি উদ্যোগে প্রচারও হয়। তবে সেই প্রচার বা সচেতনতা শিবিরে যে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না, মেদিনীপুর শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে শিরিষডাঙার ঘটনাই তার প্রমাণ। গুরুদাস বলেন, ‘‘ঘরে থাকলে হয়তো প্রাণেই মেরে দেওয়া হত।’’
স্থানীয় মণিদহ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অঞ্জন বেরা বলেন, ‘‘ঘটনার কথা শুনেছি। সম্পত্তি হাতানোর পরিকল্পনা থেকে থাকতে পারে বলে শুনছি। পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করছে। আমরা এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার করব।’’ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের আশ্বাস, ওই দম্পতিকে ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
সংবাদ সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা ও সংবাদ প্রতিদিন, ২৮ জুলাই, ২০১৯।

Saturday, July 27, 2019

ঝাড়খণ্ড পার্টির সাপ্তাহিক মুখপত্র "ঝাড়খণ্ড টাইমস"।


১৯৭০ সালে প্রকাশিত ঝাড়খণ্ড পার্টির সাপ্তাহিক মুখপত্র "ঝাড়খণ্ড টাইমস"। সম্পাদক ছিলেন ঝাড়খণ্ড পার্টির তৎকালীন সভাপতি এন ই হোরো।

Friday, July 26, 2019

মাঝি বাবাদের কাছে অনুরোধ গ্রামের 'জাহের থান' কে সরকারি ভাবে নথিভুক্ত করুন।


সমস্ত আদিবাসী গ্রামের সামাজিক প্রধান বা মাঝি বাবাদের কাছে অনুরোধ, নিজের নিজের গ্রামের ধর্মীয় উপাসনাস্থল বা 'জাহের থান' কে সরকারি ভাবে নথিভুক্ত করুন। সরকারি ভাবে নথিভুক্ত জাহের থান গুলিকে সরকারি খরচে বেড়া বা সংরক্ষণ করা হবে। খরচ দেবেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের আদিবাসী কল্যাণ দফতর।

নথিভুক্ত জাহের থান সংরক্ষণ করবে রাজ্য সরকার।


পশ্চিমবঙ্গে বনভূমির ওপর অবস্থিত মাত্র ৩২৩ টি 'জাহের থান' সরকারি ভাবে নথিভুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী কল্যাণ দফতরের পক্ষ থেকে এই ৩২৩ টি জাহের থান কে বেড়া দিয়ে সংরক্ষণের খরচ বহন করা হবে।
যে সমস্ত জাহের থান এখনও সরকারি ভাবে নথিভুক্ত হয়নি সেই গ্রামের মাঝি বাবা বা সেই গ্রামের সামাজিক সংগঠনের কর্তা ব্যক্তিরা অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

Thursday, July 25, 2019

ঝাড়খণ্ড পার্টির পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকা।

আগামী জানুয়ারি, ২০২০ সালে ঝাড়খণ্ড পার্টির মহা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষ্যে ঝাড়খণ্ড পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন করা হল। জুলাই মাসে রাঁচি শহরে এক সভার মাধ্যমে এই ঘোষণা করা হয়।
১) এনোস এক্কা (সভাপতি), ২) কিরণ আইন্দ (কার্যকরী সভাপতি), ৩) অশোক কুমার ভগত (প্রধান সাধারণ সম্পাদক), ৪) দেব কুমার ধান (সহ-সভাপতি), ৫) ওম প্রকাশ আগরওয়াল (সহ-সভাপতি), ৬) শৈলেন্দ্র কুমার মইতি (সহ-সভাপতি), ৭) ওমরেন সামাদ (সহ-সভাপতি), ৮) উমেশ কুমার পাণ্ডে (সাধারণ সম্পাদক ও মুখমাত্র), ৯) পরমেশ্বর মাহাত, ১০) সুভাষ কংগারি, ১১) অমিত রঞ্জন, ১২) সিরিল হান্স (কোষাধ্যক্ষ), ১৩) সুগড় শ্যামুয়েল ডোডরায় (সম্পাদক), ১৪) ফিলিপ সোয় (সম্পাদক), ১৫) সুফল ওঁরাও (সম্পাদক), ১৬) প্রদীপ সরেন (সম্পাদক), ১৭) জেমস লুগুন (সম্পাদক), ১৮) বিজয় গুড়িয়া (যুগ্ম সম্পাদক), ১৯) প্রমোদ খেস (যুগ্ম সম্পাদক), ২০) সঞ্জীব মেইতি (যুগ্ম সম্পাদক), ২১) বিরেন্দ্র কুমার তিয়ারি (যুগ্ম সম্পাদক), ২২) গজাধর অহধার (যুগ্ম সম্পাদক), ২৩) হেরমন টোপ্পো (যুগ্ম সম্পাদক), ২৪) শেখায়াত আনসারি (যুগ্ম সম্পাদক), ২৫) মেনান এক্কা (মহিলা শাখার সভানেত্রী), ২৬) অর্পণা হন্স (মহিলা শাখার সাধারণ সম্পাদিকা), ২৭) নিরল টোপনো (যুব শাখার সভাপতি), ২৮) আইরিন এক্কা (যুব শাখার কার্যকরী সভাপতি), ২৯) মদন কুমার গঞ্ঝু (যুব শাখার সাধারণ সম্পাদক), ৩০) লালকেশ্বর দাস (আই টি সেলের সংযোজক), ৩১) রিঙ্কু কুমার আগরওয়াল (আই টি সেলের সংযোজক), ৩২) ডমরুধর দাস (সাংস্কৃতিক মঞ্চের সভাপতি), ৩৩) প্রোফেসর দিপক প্রসাদ (বুদ্ধিজীবী মঞ্চের সভাপতি), ৩৪) মসীহ দাস গুড়িয়া (বুদ্ধিজীবী মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক), ৩৫) শৈলেন্দ্র কুমার মেইতি (ঝাড়খণ্ড মজদুর সংঘের সভাপতি)।  

কয়লাখনির জন্য জঙ্গল ধ্বংসের বিরুদ্ধে বিশাল জমায়েত করে বিডিওকে স্মারকলিপি আদিবাসীদের।


কয়লাখনির জন্য জঙ্গল ধ্বংসের বিরুদ্ধে বিশাল জমায়েত করে বিডিওকে স্মারকলিপি আদিবাসীদের।

বীরভূম জেলার খয়রাশোলে কয়লাভূমির জন্য নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে বনভূমি বলে অভিযোগ আদিবাসীদের। তাই জমি-জঙ্গলের অধিকার সুরক্ষিত করতে এলাকার আদিবাসী সমাজ গড়ে তুলেছে ‘বির বানচাও কমিটি’। যার অর্থ জঙ্গল রক্ষা কমিটি। এই ডাক দিয়েই বৃহত্তর আন্দোলনে নামলেন বীরভূম-ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী দশটি গ্রামের আদিবাসীরা। গত বৃহস্পতিবার ২৫/০৭/২০১৯ এই সব গ্রামের মহিলারা স্থানীয় বিডিও অফিসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। নিজেদের দাবি জানিয়ে ডেপুটেশনও দেন। এতে কাজ না হলে আগামিদিনে সারা জেলার আদিবাসীরা জেলাশাসকের অফিস দখল করবে বলেও হুমকি দিলেন আদিবাসী নেতারা।
কয়েক বছর আগেই খোলামুখ কয়লা খনি করার ছাড়পত্র মিলেছে বীরভূম জেলার খয়রাশোলের গঙ্গারামপুরচক মৌজায়। ঝাড়খণ্ড ঘেঁষা ওই এলাকায় খনি তৈরির জন্য জঙ্গল কাটা শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই খবর কানে পৌঁছতেই জল-জমি-জঙ্গলের অধিকার হারানোর আশঙ্কায় দিশেহারা খয়রাশোলের গঙ্গারামপুরচক, বাস্তবপুর, সগরভাঙা, গাংপুর, বেলডাঙা, ভাদুলিয়া, দেবগঞ্জের মতো আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামের বাসিন্দারা।
কয়লাখনির জন্য এলাকার প্রায় সাড়ে সাতশো বিঘারও বেশি ঘন বনভূমি চিহ্নিত হয়েছে। শুরু হয়েছে বনভূমি সাফাইয়ের কাজও। এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন আদিবাসীরা। তাই এককাট্টা হয়েছেন খয়রাশোলের গঙ্গারামপুরচক, বাস্তবপুর, সগরভাঙা, গাংপুর, বেলডাঙা, ভাদুলিয়া, দেবগঞ্জের মানুষ। ইতিমধ্যেই ‘বির বানচাও কমিটি’ গড়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। কমিটির নেতা বাবুরাম পাউরিয়া বলেন, ‘বনভূমি কেটে ফেলায় আমাদের জীবন-জীবিকায় টান পড়বে। এই জঙ্গল থেকে আমরা জ্বালানি কাঠ, শালপাতা, কেন্দু পাতা, মধু, জাম, খেজুর, পিয়াল, মহুয়া সংগ্রহ করি। দৈনন্দিন জীবনে এর কোনওটা আমাদের পেট ভরায়। আবার কোনও কোনও জিনিস বিক্রি করে আমাদের চাল-ডাল জোটে। জঙ্গল কেটে কয়লা খনি হলে না খেয়ে মরতে হবে।’
স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন ‘বীরভূম আদিবাসী গাঁওতা’-র নেতা সুনীল সোরেন বলেন, ‘অরণ্যের উপর নির্ভরশীল আদিবাসীরা কয়লাখনির নামে অবিচারে ব্যাপক হারে সবুজ ধ্বংসের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন। ‘বনাধিকার আইন ২০০৬’-কে মান্যতা না দিয়ে এবং গ্রামসভা ছাড়াই কী ভাবে ১০১ একর প্রাকৃতিক অরণ্যকে ধংস করে আদিবাসীদের জীবন জীবিকা বিপন্ন করার মতো গুরুতর ও মারাত্মক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল, তার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন।’
খয়রাশোলের বিডিও সঞ্জয় দাস বলেন, ‘যেখানে কয়লাখনি তৈরি হবে, সেই এলাকার বাসিন্দাদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তা আমরা খতিয়ে দেখব। কয়লা খনির জন্য জঙ্গল নিয়ে সিদ্ধান্ত আমার নেওয়ার কথা নয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বাকি দাবি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখব।’
২০১৪ সালে কয়লার ব্লক-বণ্টন বাতিল হওয়ার আগে খয়রাশোলের কৃষ্ণপুর-বড়জোড় ও গঙ্গারামচক মৌজার মাটির নীচে কয়লা উত্তোলনের বরাত পায় ‘এমটা’। সেই কয়লা বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল ওই সংস্থার। ২০১১ সালের পর থেকে কৃষ্ণপুর-বড়জোড় অঞ্চল এবং তার পরে গঙ্গরামচকে কিছু অংশে খোলামুখ খনি গড়ে কয়লা উত্তোলন শুরু করেছিল তারা। কিন্তু ২০১৪ সালে সারা দেশে ২০৪টি কোল-ব্লক বাতিলের তালিকায় ছিল খয়রাশোলের দুটি ব্লক-ও।
কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৫ সালে নয়া কয়লা ব্লক বণ্টন আইন প্রনয়ণ করে দেশের বহু কয়লা ব্লক বণ্টন করে। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগম (পিডিসিএল) রাজ্যে পাঁচটি কোল ব্লক থেকে কয়লা উত্তোলনের অনুমতি পায়। সেই পাঁচটির মধ্যে দুটি ব্লক রয়েছে খয়রাশোলের বড়জোড় ও গঙ্গারামচক মৌজার। কোল ব্লক থেকে কয়লা তোলার অনুমতি পেলেও পরিবেশ ও বন মন্ত্রকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না মেলায়, ২০১৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সেখানে কয়লা উত্তোলনের কোনও উদ্যোগ নিতে পারেনি পিডিসিএল। তবে এর মধ্যে প্রয়োজনীয় এনওসি নিয়ে ২০১৭ সালের শেষ দিকে খয়রাশোলের কৃষ্ণপুর-বড়জোড় মৌজা থেকে কয়লা উত্তোলনের প্রস্ততি শুরু হয়ে যায়। তবে জটিলতা থেকে যায় গঙ্গারামচক মৌজা নিয়ে। কারণ এই মৌজার একটি বড় অংশে রয়েছে বিশাল জঙ্গল। প্রায় সাড়ে সাতশো বিঘারও বেশি ঘন বনভূমি চিহ্নিত হয়েছে ওই এলাকায়। ফলে প্রথমে বাদ সাধে বন দপ্তর।
বন দপ্তর জানিয়ে দেয়, যে পরিমাণ বনভূমি নষ্ট হচ্ছে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার সমপরিমাণ জমি দিতে হবে। শুধু তাই নয়, সেখানে গাছ লাগানোর যাবতীয় খরচ বহন করতে হবে পিডিসিএলকে। এর জন্য বন দপ্তরের ‘কমপেনসেটারি অ্যাফরেস্টেশন ফান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড প্ল্যানিং অথরিটি’ কর্মসূচির বিস্তারিত নিয়ম জানিয়ে দেওয়া হয়। গত কয়েক মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ নিগম ওই স্কিমের আওতায় উত্তরবঙ্গের বৈকণ্ঠপুরে সমপরিমাণ এলাকা ‘কপমেনসেট’ করেছে বন দপ্তরকে। সেখানে গাছ লাগানোর খরচও দিয়েছে তারা। কিন্ত বীরভূমের ওই অঞ্চলের ১০১ হেক্টর বনভূমি শূন্য হয়ে যাচ্ছে। বিকল্প হিসাবে খরাপ্রবণ এই জেলার খয়রাশোল ব্লকে নতুন করে সমপরিমাণ বনভূমি গড়ে ওঠার বিষয়ে বীরভূমের এডিএফও বিজন কুমার নাথ বলেন, ‘যে অঞ্চলে কয়লাখনি করার জন্য বনভূমি নষ্ট করা হচ্ছে, সেখানে নিয়ম মেনে সমপরিমাণ জমি এবং তাতে বন সৃজনের খরচ দিয়েছে পিডিসিএল। তবেই বন দপ্তর অনুমতি দিয়েছে।’
তবে আদিবাসীরা পরিষ্কার ভাবেই জঙ্গল ধ্বংস করে কয়লাখনি তৈরির বিরুদ্ধে তাদের অনড় মনোভাবের কথা জানিয়ে দিয়েছে। তাদের সাফ কথা, জঙ্গল ধ্বংস করে কয়লাখনি নয়। সেটা করতে হলে তাঁদের জীবন জীবিকা সুরক্ষিত রেখেই করতে হবে। এই জোড়া শর্ত সামনে রেখেই গত বৃহস্পতিবার ২৫/০৭/২০১৯ বিশাল জমায়েত করে খয়রাশোলের বিডিওকে স্মারকলিপি দিল আদিবাসীদের দুটি সংগঠন, বীরভূম আদিবাসী গাঁওতা ও বীর বানচাও কমিটি। বৃহস্পতিবার ওই জঙ্গল কাটা বন্ধ করার আর্জি নিয়ে খয়রাশোলে বিশাল জমায়েত বুঝিয়ে দিল আলোচনা না করে কাজ হাত দিলে সমস্যা রয়েছে।
এ দিন খয়রাশোলের গোষ্টমেলার মাঠে আদিবাসীদের জমায়েত হবে বলে আগাম খবর ছিল স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। সেই জন্য প্রস্তুত ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। খয়রাশোলের ব্লক ও জেলার অন্য প্রান্ত থেকেও সংগঠনের সদস্যরা এসেছিলেন। বেলা ২টো নাগাদ মিছিল করে বিডিও অফিসে গিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। নেতৃত্বে ছিলেন বীরভূম আদিবাসী গাঁওতার নেতা সুনীল সরেন। তবে খনির জন্য জঙ্গল ধ্বংস ছাড়াও, জীবিকা সুরক্ষিত রাখা, এলাকায় পানীয় জলের সঙ্কট, রাস্তাঘাটের উন্নতি, জাহের থান সংস্কার সহ আদিবাসীদের সঙ্গে বঞ্চনার নানা অভিযোগ তুলে ধরেন আদিবাসীরা।
আদিবাসীদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে না বলে পিডিসিএল বেমালুম প্রস্তাবিত কয়লাখিনি ঘেঁষে থাকা লোকজনের কথা ভুলে যাচ্ছে। সেটা হতে দেব না। সুনীল সরেন বলেন, ‘প্রস্তাবিত খনি এলাকা সংলগ্ন বাস্তবপুর, সগড়ভাঙ্গা, বেলডাঙা, ভাদুলিয়া গঙ্গারামচক, দেবগঞ্জ এলাকার আদিবাসীদের বসতে এখনই হাত পড়বে না, কিন্তু যে ভাবে জঙ্গল কেটে কয়লাখনি তৈরির কাজ চলছে, তাতে ঘুরিয়ে তাঁদের উচ্ছেদের পরিকল্পনাই করা হয়েছে। কারণ জঙ্গল না থাকলে জীবিকা কী ভাবে হবে। দুদিন বাদে খনিতে বিস্ফোরণে ঘর ফেটে গেলে উচ্ছেদ হতে হবে। তাই আলোচনার ভিত্তিতে সহমতে না আসা পর্যন্ত জঙ্গল কটা চলবে না।’
প্রশাসন সূত্রে খবর, অশান্তির ভয়ে আপাতত গাছ কাটা বন্ধ রেখেছে পিডিসিএল।
সংবাদ সৌজন্য - এই সময় ও আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৬/০৭/২০১৯।

ঝাড়খণ্ড পার্টি (প্যারা মুণ্ডু গোষ্ঠী)-র সভা।



গত মঙ্গলবার (২৩/০৭/২০১৯) রাঁচি জেলার নামকুম ব্লকে ঝাড়খণ্ড পার্টি (প্যারা মুণ্ডু গোষ্ঠী)-র কেন্দ্রীয় কমিটি, রাঁচি জেলা কমিটি ও নামকুম ব্লক কমিটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হল। সভায় সভাপতিত্ব করলেন ঝাড়খণ্ড পার্টি (প্যারা মুণ্ডু গোষ্ঠী)-র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রুবেন ডাং মহাশয়। এই সভায় নামকুম ব্লক কমিটি পুনর্গঠন করা হয় – শ্রী পত্রাস মাহালি (সভাপতি), শ্রী রাজেন কেরকেটা (সম্পাদক), শ্রী অঙ্কিত তিরকি (কোষাধ্যক্ষ), শ্রী প্রকাশ চম্পিয়া (সহ-সভাপতি), শ্রী জর্জ টোপনো (সহ-সভাপতি), শ্রী মঙ্গল পাহান (সহ-সভাপতি) এবং জগন মুণ্ডা (সহ-সম্পাদক)। নামকুম ব্লক কমিটির সভায় বিশেষ বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্যারা মুণ্ডু মহাশয় ও গুমলা জেলা কমিটির সভাপতি দিলিপ বিরহোর মহাশয়। 
নামকুম ব্লক কমিটির সভা শেষ হবার পর ঝাড়খণ্ড পার্টি (প্যারা মুণ্ডু গোষ্ঠী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য পেশ করেন ঝাড়খণ্ড পার্টি (প্যারা মুণ্ডু গোষ্ঠী)-র কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রী প্যারা মুণ্ডু মহাশয়, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি শ্রী সবন হোরো, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শ্রী বুধরাম তিরকি, শ্রী রুবেন ডাং, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শ্রী কিশোর হোরো, শ্রী সুখরাম হেরেঞ্জ, কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক শ্রী বিশ্রাম বাগে, কেন্দ্রীয় মহিলা সভানেত্রী শ্রীমতী সুগন্ধিত বাগে, শ্রী পত্রাস মাহালি, শ্রী জগন মুণ্ডা, শ্রীমতী মুন্না দেবী, শ্রীমতী হোলিমা দেবী ও অন্যান্য পদাধিকারীরা।