Thursday, September 6, 2018

ঝাড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতি গঠন করল তৃণমূল কংগ্রেস।


ঝাড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতি গঠন করল তৃণমূল কংগ্রেস, সভাপতি রেখা সরেন ও সহ-সভাপতি সুবোধ টুডু নির্বাচিত।

গত বুধবার ০৫/০৯/২০১৮ ঝাড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন করল তৃণমূল কংগ্রেস। দ্বিতীয়বারের জন্য সভাপতি পুনঃনির্বাচিত হলেন রেখা সরেন। সহ-সভাপতি নির্বাচিত হলেন সুবোধ টুডু।
ঝাড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির মোট আসন ৩০টি। ১৮টি আসনে তৃণমূল ও ১২টি আসনে বিজেপি জয়ী হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে তৃণমূলেই বোর্ড গঠন করল। ভোটাভুটিতে রেখা সরেন সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। সহ-সভাপতি নির্বাচিত হলেন সুবোধ টুডু। সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনের পর আবির খেলায় মেতে ওঠেন তৃণমূল কর্মীরা। দুই বিধায়ক সুকুমার হাঁসদা ও চূড়ামণি মাহাত উপস্থিত থেকে নতুন বোর্ডকে সংর্বধনা জানান। জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক সুকুমারবাবু বলেন, জঙ্গলমহলের মানুষ তৃণমূলের পক্ষেই রয়েছে। দ্বিতীয়বার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পরে রেখাদেবী বলেন, ব্লকের এখনও যে সমস্ত অবহেলিত মানুষ রয়েছেন, তাঁদের কাছে যাব। বিশেষ করে প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলিতে গিয়ে মানুষের জন্য আরও কাজ করব।
সৌজন্য – বর্তমান পত্রিকা, ০৬/০৯/২০১৮।

Wednesday, September 5, 2018

অন্য রাজ্যে সংরক্ষণের সুবিধে পাবেন না SC, ST ও OBC রা, জানাল সুপ্রিম কোর্ট।


অন্য রাজ্যে সংরক্ষণের সুবিধে পাবেন না তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি ও অনগ্রসর শ্রেণীভুক্তরা, জানাল সুপ্রিম কোর্ট।

এক রাজ্যের দলিত, আদিবাসী কিংবা অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তি পড়াশুনো বা চাকরির জন্য অন্য রাজ্যে গেলে সেখানে সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন না৷ ব্যতিক্রম শুধু দিল্লি৷ গত বৃহস্পতিবার ৩০ শে আগস্ট, ২০১৮ এমনই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, জাতিভিত্তিক সংরক্ষণের সুবিধা শুধুমাত্র নিজের রাজ্যতেই পাওয়া যাবে। উদাহরণ হিসেবে বিচারপতিরা বলেছেন, ‘অন্ধ্রপ্রদেশের কোনও তফশিলি জাতি-উপজাতি, দলিত বা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ যদি মহারাষ্ট্রে গিয়ে সংরক্ষণের দাবি জানান, তা হলে ওই রাজ্যের বাসিন্দাদের সংরক্ষণের সুযোগ কমে যাবে।তাই একটি রাজ্যের দলিত, আদিবাসী, অনগ্রসররা শুধুমাত্র সেই রাজ্যেরই সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন৷ আদালতের বক্তব্য, এমনটা না হলে অরাজকতা দেখা দেবে৷ তবে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে এই রায় নিয়ে সম্পূর্ণ মতৈক্য হয়নি৷ বিচারপতি ভানুমতির মত ছিল, দিল্লিকে ব্যতিক্রম হিসেবে ধার্য করা ঠিক হয়নি।
বিচারপতি গগৈয়ের লেখা ১৬৩ পাতার রায়ে সবিস্তারে উল্লেখ করা হয়েছে, কেন তাঁরা এক রাজ্যের মানুষকে অন্য রাজ্যের সংরক্ষণ থেকে দূরে রাখতে চাইছেন। রায়ে বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ৩৪১ ও ৩৪২ নম্বর ধারার ক্ষমতাবলে তৈরি তফশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের তালিকায় রদবদল একমাত্র সংসদই করতে পারে। সংবিধানের ১৬(৪) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশানুসারে তফশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রটি শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ভৌগোলিক গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে৷ কোনও রাজ্য যদি এই নিয়মকে অন্য রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়, তা হলে তাকে সংসদের অনুমতি নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। অন্যথায় অরাজকতা তৈরি হবে।
সৌজন্য – এই সময়, ৩১/০৮/২০১৮।

আন্দামান সহ সারা দেশের আদিবাসীদের স্বাস্থ্য নিয়ে আশঙ্কা কেন্দ্রের স্বাস্থ্য-রিপোর্টে।


আন্দামানের প্রাচীন আদিবাসীদের সম্পর্কে রীতিমতো চিন্তার কথা শোনাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট৷ “বো” জনজাতি আদিবাসীদের শেষ মহিলার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে “বো” ভাষাও বিলুপ্ত হয়েছে৷ সেই সঙ্গে হারিয়ে গিয়েছে ৬৫ হাজার বছরের একটা সংযোগ৷ আর বাইরের লোকের সংস্পর্শে এসে “জারোয়া”-দের মিস্‌লস এবং ম্যালেরিয়া হচ্ছে৷ এর ফলে তাঁরাও একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারেন৷ আন্দামানে এখনও আড়াইশো থেকে তিনশো মতো জারোয়া আছেন৷ “সেন্টিনাল” আদিবাসী আছেন মাত্র ৩৮ জন৷ ২১ জন ছেলে ও ১৮ জন মেয়ে৷ “গ্রেট আন্দামানি” আছেন মাত্র ৫৩ জন৷
কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, দেশের আদিবাসীদের স্বাস্থ্যের হাল ভালো নয়৷ প্রায় ৭৭ শতাংশ আদিবাসী বাচ্চা রক্তাল্পতায় ভুগছে৷ ১২ থেকে ৩৫ মাসের মধ্যে আদিবাসী বাচ্চাদের মধ্যে মাত্র ২১ শতাংশ ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট পায়৷ আর ৬৮ শতাংশ আদিবাসী মহিলা ও চল্লিশ শতাংশ আদিবাসী পুরুষ রক্তাল্পতার শিকার৷ এক হাজার জনের মধ্যে ২.৯ জন এইডসের শিকার৷ এর ওপর রয়েছে অসুখ-বিসুখের প্রকোপ৷ আদিবাসীদের মধ্যে যতজন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন, তাদের ৩০ শতাংশই মধ্যপ্রদেশে৷ ম্যালেরিয়ায় ৫০ শতাংশ মৃত্যুও মধ্যপ্রদেশে হয়৷ সেখানে বিপুল পরিমাণ জঙ্গল আছে এটা ঠিক, কিন্তু তার সঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থারও অমিল৷
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সমীক্ষা রিপোর্ট থেকে আরও বেরিয়ে এসেছে, আদিবাসী এলাকায় ডাক্তাররা, বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা একেবারেই যেতে চান না৷ ছত্তিসগড়ে বিশেষজ্ঞদের এক লাখ টাকা করে মাসে দেওয়া হয়৷ মধ্যপ্রদেশে প্রত্যন্ত এলাকায় ডাক্তারদের বেতন দ্বিগুণ দেওয়া হয়৷ গুজরাটে শিশুরোগ ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের প্রতিটি ভিজিটে আড়াই ও তিন হাজার টাকা করে দিতে হয়৷
অধিকাংশ রাজ্যেই আদিবাসী এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম৷ গুজরাটে যেমন ৩৫২ জন চিকিৎসক দরকার, আছেন ১১২ জন৷ ছত্তিসগড়ে ৪০৩ জন দরকার, আছেন ২৩৩ জন, ঝাড়খণ্ডে দরকার ৩৩৭ জন, সেখানে আছেন মাত্র ১২ জন৷ পশ্চিমবঙ্গে দরকার ২৮৪ জন, আছেন ১৬৭ জন৷ এই হিসাব ২০১২-র৷ আর পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসক কম থাকলেও অবস্থাটা অন্য রাজ্যের মতো অতটা খারাপ নয়৷ পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৫৮ শতাংশ সরকারি, ১৯ শতাংশ বেসরকারি এবং ২৩ শতাংশ এনজিও পরিচালিত হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করান৷ আর আদিবাসী নন লোকের মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ সরকারি, ২৭.৫ শতাংশ বেসরকারি ও বাকিটা এনজিও চালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে চিকিৎসা করান৷ ফলে রাজ্যে আদিবাসী ও আদিবাসী নন, তাঁদের মধ্যে সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও-দের কাছে চিকিৎসা করানোর হারে খুব বেশি প্রভেদ নেই৷ অন্য রাজ্যের ক্ষেত্রে এই প্রভেদটা মারাত্মক রকমের হেরফের করছে৷
অনেক রাজ্যেই আদিবাসীদের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রই সম্বল৷ বেসরকারি জায়গায় তারা চিকিৎসা করাতে পারে না৷ আর অ-আদিবাসীদের মধ্য বেসরকারি ক্ষেত্রে চিকিৎসা করানোর প্রবণতা অনেক বেশি৷ এ ছাড়া অনাদিবাসীদের তুলনায় আদিবাসীদের মধ্যে শিশুমৃত্যুর হার অনেক বেশি৷ মাত্র ২৬ শতাংশ লোকের কাছে স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে৷ পুরো ভ্যাকসিন দেওয়া হয় মাত্র ৩১ শতাংশ আদিবাসী বাচ্চাদের৷ প্রাপ্তবয়ষ্ক আদিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রতি এক হাজার ছেলের মধ্যে ৯৯০ জন মেয়ে, এই হার আগের থেকে বেড়েছে৷ কিন্তু বাচ্চাদের ক্ষেত্রে আগে এক হাজার ছেলের অনুপাতে ৯৫১ জন মেয়ে ছিল৷ এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪০-এ৷ এই সংখ্যাটা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক৷
আদিবাসীদের সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য রিপোর্টে জানানো হয়েছে, সেটা হল, পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় কোনও আদিবাসী নেই৷ আদিবাসীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই মধ্য ভারতে আছে৷ ভারতে মোট ৭৫০টি আদিবাসী সম্প্রদায় আছে৷ আদিম আদিবাসী সম্প্রদায় আছে ৭৫টি৷
সৌজন্য – এই সময়, ০৫/০৯/২০১৮। ছবি প্রতীকী (ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)।

এসসি-এসটি আইন সংশোধন করে কঠোর করায় মধ্যপ্রদেশে উচ্চবর্ণদের বিক্ষোভ।


তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি অত্যাচার নিরোধক আইন, ১৯৮৯ (SC/ST Prevention of Attrocity Act, 1989) সংশোধন করে কঠোর করায় মধ্যপ্রদেশে উচ্চবর্ণদের বিক্ষোভ।

দলিত-আদিবাসীদের খুশি করতে গিয়ে মধ্যপ্রদেশে উচ্চবর্ণকে ব্যাপক চটিয়ে দিয়েছে বিজেপি৷ সুপ্রিম কোর্ট যে আইনকে লঘু করে দিয়েছিল, সেই এসসি-এসটি আইন তথা তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি অত্যাচার নিরোধক আইন, ১৯৮৯ (SC/ST Prevention of Attrocity Act, 1989)-কে আবার আগের মতো কঠোর করে সংসদে পাশ করিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার৷ আর তারপরেই উচ্চবর্ণের তরুণরা মধ্যপ্রদেশে রাস্তায় নেমেছেন৷ তাঁরা নিয়মিত বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন৷ ইতিমধ্যেই তাঁদের কালো পতাকা বা বিক্ষোভের শিকার হয়েছেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও নেতা৷ এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী যশোধরারাজে, নারায়ণ সিং, ললিতা যাদব তাঁদের সব কর্মসূচি বাতিল করেছেন৷
এই আন্দোলন সবথেকে তীব্র হয়েছে গোয়ালিয়র-চম্বল এলাকায়৷ বাকি জায়গাতেও কম বেশি শুরু হয়েছে৷ এই বিক্ষোভের তীব্রতা দেখে শিবপুরীতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে৷ গোয়ালিয়রে নেতাদের বাড়িতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ উচ্চবর্ণের বিক্ষোভকারীদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর যে অবস্থা ছিল তা আবার ফিরিয়ে আনতে হবে৷
এই যে আন্দোলন হচ্ছে তার সে রকম ভাবে কোনও নেতা নেই৷ মূলত সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হচ্ছে৷ উচ্চবর্ণের কিছু সংগঠন এই ডাক দিচ্ছে৷ তারপর পাঁচ থেকে সাত হাজারের মতো তরুণ জড়ো হয়ে যাচ্ছে৷ বিক্ষোভ শুরু হচ্ছে৷ মন্ত্রী বা রাজনৈতিক নেতাদের কোনও অনুষ্ঠান থাকলেই সেখানে কালো পতাকা নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা৷ সবথেকে বড় বিক্ষোভ হয়েছে গোয়ালিয়রে৷
মধ্যপ্রদেশে দুই প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি ও কংগ্রেস এ ব্যাপারে একেবারে চুপ৷ আর কয়েক মাস পরে যেখানে বিধানসভা ভোট, সেখানে কোনও দলই ঝুঁকি নিতে পারছে না৷ বিক্ষোভকারী উচ্চবর্ণ সংগঠনের মনোভাব হল, বিজেপি ও কংগ্রেস দুই দলই এসসি-এসটি আইন তথা তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি অত্যাচার নিরোধক আইন, ১৯৮৯ (SC/ST Prevention of Attrocity Act, 1989)-কে কড়া করতে চেয়েছে৷ প্রায় ৩০ শতাংশ উচ্চবর্ণের কথা তাঁরা ভাবেনি৷ ফলে দুই দলের ওপরেই খাপ্পা উচ্চবর্ণের যুবকরা৷ সে জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তোমর থেকে শুরু করে জ্যোতিরাদিত সিন্ধিয়াও বিক্ষোভের শিকার হয়েছেন৷ গোয়ালিয়ারে সিন্ধিয়ার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মানে কম কথা নয়৷ রাজত্ব না থাকলে কী হবে, এখনও গোয়ালিয়র, গুণা, শিবপুরীতে প্রায় রাজার মর্যাদা পান জ্যোতিরাদিত্য৷
ঘটনা হল, এই গোয়ালিয়র-চম্বলে অতীতেও এই ধরনের চরম জাতি বিক্ষোভ হয়েছে৷ উচ্চবর্ণ ও দলিত দুপক্ষই এখানে সমান শক্তিশালী৷ কিন্তু তার থেকেও বড় কথা হল, যতই জাতির ভিত্তিতে বাটোয়ারা হবে, ততই অশান্তি বাড়বে৷ ফলে মধ্যপ্রদেশের একটা বড় অংশে সাবর্ণদের বিক্ষোভের ফলে অশান্তি বাড়ছে৷ সুপ্রিম কোর্ট এসসি-এসটি আইন তথা তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি অত্যাচার নিরোধক আইন, ১৯৮৯ (SC/ST Prevention of Attrocity Act, 1989)-কে লঘু করে দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে দুটি বিকল্প ছিল৷ হয় সর্বোচ্চ আদালতের রায় মেনে নেওয়া অথবা আগের কড়া আইন বলবৎ করা৷ প্রথম বিকল্প নিলে দলিত-আদিবাসী ভোট হারাতে হত বিজেপিকে৷ দ্বিতীয় বিকল্প নেওয়ায় বিজেপি-র চিরাচরিত উচ্চবর্ণের ভোটব্যাঙ্কে আঘাত লেগেছে৷ বিজেপি নেতারা অবশ্য বলছেন, এই ক্ষোভ-বিক্ষোভ একবার বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার পর অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যাবে৷ আর যেহেতু উচ্চবর্ণের ভোটদাতারা বরাবর বিজেপিকেই ভোট দেন, তাই ক্ষোভ-বিক্ষোভ সত্ত্বেও তাঁরা এ বারও সেটাই করবেন৷ কিন্তু যেভাবে বিক্ষোভ বাড়ছে, তাতে বিজেপি নেতাদের চিন্তাও গভীর হচ্ছে৷
সৌজন্য – এই সময়, ০৫/০৯/২০১৮।

‘দলিত’ শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কেন্দ্রীয় সরকারের।

সংবাদমাধ্যমে ‘দলিত’ শব্দটি ব্যবহার করা যাবে না বলে নির্দেশ জারি করল কেন্দ্রের তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ, সাংবিধানিক পরিভাষা অনুযায়ী, “তফসিলি জাতি”-ই বলতে হবে। এর আগে নরেন্দ্র মোদী সরকারের সামাজিক ন্যায় মন্ত্রক রাজ্যগুলির জন্য নির্দেশ দিয়েছিল যে, সরকারি চিঠিপত্রে “তফসিলি জাতি” শব্দটিই ব্যবহার করতে হবে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের এই নীতি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিজেপির তফসিলি জাতি সাংসদ উদিত রাজ বলেন, ‘‘দলিত শব্দটি তো প্রচলিত। উপদেশ হিসেবে ঠিক থাকলেও বাধ্যতামূলক করা উচিত নয়।’’
তফসিলি জাতির অধিকার নিয়ে লড়াই করা সংগঠনগুলির দাবি, এর সঙ্গে লড়াই করে আদায় করা পরিচিতি ও রাজনৈতিক তাৎপর্য জড়িত। সরকারের অবশ্য যুক্তি, বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত। কংগ্রেসের মুখপাত্র মনীশ তিওয়ারির প্রশ্ন, ‘‘অনেক রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই দলিত শব্দ রয়েছে। মানুষ কী শব্দ উচ্চারণ করবে, সেটাও মোদী সরকার ঠিক করে দেবে?’’ কংগ্রেসের তফসিলি জাতির নেতা পি এল পুণিয়া অবশ্য সরকারের পক্ষে। তাঁর যুক্তি, ‘‘সংবিধানে কোথাও দলিত শব্দ নেই।’’
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮।

পুরুলিয়ার বান্দোয়ান হাইস্কুলে আত্মরক্ষার পাঠ দেবে আদিম আদিবাসী শবর ছাত্রী।


সেই ব্রিটিশ আমলেই অপরাধীর তকমা দেগে দেওয়া হয়েছিল আদিম আদিবাসী শবর ও খেড়িয়া সম্প্রদায়দের। এলাকায় কোন অপরাধমূলক কাজকর্ম হলেই শবর খেড়িয়াদের সন্দেহ করা হত। তবে বর্তমানে আগের থেকে সেই পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পড়াশোনা করে এগিয়ে আসছেন ওই সব আদিম আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা। এ বার আদিম আদিবাসী শবর পরিবারের এক ছাত্রীর হাতেই স্কুলের বাকি ছাত্রীদের আত্মরক্ষার পাঠ দেওয়ার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল। শিক্ষক দিবসের দিন বান্দোয়ান গার্লস হাইস্কুলে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী আদরি শবরের হাতে। আজ, বুধবার থেকে স্কুলের ছাত্রীরা আদরির তত্ত্বাবধানে আত্মরক্ষার জন্যে নিয়মিত পাঠ নেবে।
সম্প্রতি জঙ্গলমহল ক্যারাটে ডো চ্যাম্পিয়ান কাপ প্রতিযোগিতা হয়েছে। বাঁকুড়ার খাতড়ায় আয়োজিত ৪র্থ বর্ষের এই প্রতিযোগিতায় আদরি (৪০-৪৫ কেজি) বিভাগে প্রথম স্থান পায়। বান্দোয়ান গার্লস হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী আদরি সোনা এবং ওই স্কুলের নবম শ্রেণির দুর্গা প্রামাণিক ওই বিভাগে দ্বিতীয় হয়ে রুপো জিতেছে। দুর্গাও আদরির সঙ্গে প্রশিক্ষণে সাহায্য করবে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বীথিকা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বান্দোয়ানের বান্দুডাবর গ্রামের আদরি প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া। সে পঞ্চম শ্রেণি থেকে এই স্কুলের আবাসিক ছাত্রী। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুলে ক্যারাটে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। অল্প দিনের মধ্যে আদরির পারদর্শিতা প্রশিক্ষকের নজরে আসে। আদরি এবং দুর্গা স্কুলের নাম রেখেছে।’’ তিনি জানান, আজ, বুধবার শিক্ষক দিবস। এই দিনটিতে পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়। সে জন্য শিক্ষক দিবস থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে আদরিকে প্রশিক্ষণের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হল। তবে ইতিপূর্বেই সে অন্যান্য ছাত্রীদের ক্যারাটের কলাকৌশল শেখাতে শুরু করেছে। প্রশিক্ষণ মাঝে মধ্যে এলেও আদরি নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেবে।
স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি রঘুনাথ মাঝি বলেন, ‘‘আদরি পিছিয়ে পড়া আদিম আদিবাসী জনজাতি থেকে উঠে এসেছে। এখনও এলাকায় কোন অপরাধ ঘটলে ওই জনগোষ্ঠীর লোকদের দিকে সন্দেহের আঙুল ওঠে। এই অবস্থায় একজন আদিম আদিবাসী শবর ছাত্রী বাকিদের আত্মরক্ষার কলাকৌশল শেখাবে, এর থেকে ভাল হয় না।’’ তাঁর মতে, মেয়েরা নানা কাজেই বাইরে বেরোচ্ছেন। ক্যারাটের প্রশিক্ষণ নেওয়া থাকলে তাদের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়বে, তেমনই সাহসীও হয়ে উঠবে। তাই নিয়মিত স্কুলে ক্যারাটে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ওই স্কুলে ক্যারাটের প্রশিক্ষক ধনঞ্জয় পরামাণিক বলেন, ‘‘আদরির মধ্যে শেখার ইচ্ছা প্রবল। ক্যারাটের বিভিন্ন কৌশল এক বার শিখলে ভোলে না। ওকে নিয়ে আমি আশবাদী।’’
বীথিকাদেবী বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলের সমস্ত কন্যাশ্রী ছাত্রী ক্যারাটে প্রশিক্ষণ নেয়। প্রতি শুক্রবার ও রবিবার প্রশিক্ষণ চলে। আদরি আবাসিক ছাত্রী হওয়ায় ছাত্রীদের আলাদা ভাবে প্রশিক্ষণের জন্যে বাড়তি সময় দিতে পারবে।’’
আদরির কথায়, ‘‘ভয়ের জন্ম মনে। মন থেকে এক বার ভয় কাটিয়ে উঠতে পারলে, কোনও কিছুই আর সমস্যা বলে মনে হবে না।’’
সেই কথাতেই আস্থা রেখে সহপাঠীদের ভরসা দিতে চায় আদরি।
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮।

Tuesday, September 4, 2018

নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প বুলেট ট্রেনের পথে বাধা আদিবাসী অধ্যুষিত মহারাষ্ট্রের পালঘর।


সিঙ্গুরের ছায়া মহারাষ্ট্রের পালঘরে। ন্যানোর মতোই আশা-নিরাশার দোলাচলে নরেন্দ্র মোদীর সাধের বুলেট ট্রেন প্রকল্প। ২০১৮ এর ডিসেম্বরের মধ্যে বুলেট ট্রেনের গোটা করিডরের জমি অধিগ্রহণ সেরে নির্মাণকাজের দরপত্র ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তা না হলে, ২০২২ সালের ১৫ অগস্ট তো ছাড়, ’২৩ সালেও বুলেট ট্রেনের ছোটা মুশকিল। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় ওই প্রকল্পের গলার কাঁটা হল মহারাষ্ট্র-গুজরাতের সীমান্তে জল-জঙ্গলে ঘেরা আদিবাসী অধ্যুষিত পালঘর।
পালঘরে অধিগ্রহণ-জনিত সমস্যা যে রয়েছে, তা মেনে নিয়ে ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (NHSRCL)-এর প্রধান আঁচল খারে বলেন, “বাজার দর থেকে চার-পাঁচ গুণ বেশি দামে জমি কেনা হচ্ছে। বানানো হচ্ছে হাসপাতাল, স্কুল। তাই আমরা আশাবাদী শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের প্যাকেজে রাজি হয়ে যাবেন স্থানীয়রা।” সবর্শক্তি প্রয়োগ করে পালঘর জেলার চারটি তালুকার মধ্যে ডহানু, তলাসারিতে গ্রামবাসীদের বোঝাতে পারলেও সাফল্য এখনও অধরা পালঘরে। সব মিলিয়ে ত্রিশটির বেশি গ্রামে অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আলোচনা শুরুই করতে পারেনি প্রশাসন।
কারণ পাঁচ গুণ বেশি দামেও জমি দিতে নারাজ পালঘরের বীরথানপুরের কৃষক পরশুরাম গায়েকোয়াড়। সম্পন্ন কৃষক। চাষের আয়েই ঘর চলে। সম্প্রতি নতুন দর হেঁকে স্বেচ্ছায় জমিদাতাদের চারের বদলে পাঁচ গুণ অর্থ দেওয়ার ঘোষণা করেছে প্রশাসন। বাড়ি নষ্ট হলে, সেই গ্রামে বা সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তাও রাজি হননি গায়েকোয়াড়। গ্রামসভায় শুনেছিলেন তাঁর জমির উপর দিয়ে লাইন যাবে, শোনা ইস্তক রাতের ঘুম ছুটেছে বছর পঁয়তাল্লিশের ওই কৃষকের। তাঁর কথায়, “ক্ষতিপূরণের টাকা আর কদিন চলবে ? তার থেকে পরিবারের এক জনকে চাকরি দিক। জমি দিয়ে দেব।” এ দিকে রেল বলছে, অধিগ্রহণের জন্য সামান্য জমির প্রয়োজন। এলিভেটেড করিডর (যার উপরে ট্রেন ছুটবে) ও নিচে দুধারে থাকবে চার ফুটের রাস্তা। সব মিলিয়ে ষাট ফুটের লম্বা একটি ফালি লাগবে যা গ্রামের মাঝখান দিয়ে চলে যাবে। যে জমির ২৫ শতাংশ কাজের শেষে ফেরতও দেওয়া হবে।
প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখালেও স্থানীয়দের চাকরি দেওয়ার প্রশ্নে আশ্বাস দিতে অপারগ খারে। তাঁর কথায়, “নির্মাণ কাজ শুরু হলে প্রচুর মজুর দরকার হবে। তখন স্থানীয়রা সুযোগ পাবেন।” কিন্তু স্থানীয়দের স্থায়ী ভাবে নেওয়া যে সম্ভব নয়, সেটা কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছেন রেলকর্তারা। তাঁদের কথায়, এ ধরনের প্রকল্পে দক্ষ লোকেদের নেওয়া হয়। ফলে গ্রামবাসীদের সুযোগ দেওয়া যাচ্ছে না।
পালঘরের ঘরে-ঘরে শিবসেনার সমর্থক। বীরথানপুরে আঁচল খারের উপস্থিতিতে NHSRCL চিকিৎসক সমেত প্রাথমিক স্বাস্থ্য-কেন্দ্র চালু করলেও বিনিময়ে বুলেট ট্রেন চান না গ্রামের সরপঞ্চ রাজশ্রী কেনি। মুখে হাসি লেগে রয়েছে সব সময়। হলে কী হবে, স্থানীয় এলাকায় শিবসেনার দাপুটে নেত্রী রাজশ্রীর হাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্বোধন হলেও জমি দেওয়ার প্রশ্নে তিনি দুর্যোধনের মতোই একবগ্গা। বলছেন, “স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা স্কুলের বিনিময়ে জমি কেন দেব ? এ চালু করা তো সরকারের দায়িত্ব।”
মুম্বই-আমদাবাদ ৫০৮ কিলোমিটার লাইনের মধ্যে ১১০ কিলোমিটার লাইন যাবে পালঘর জেলার ৭২টি গ্রামের মধ্যে দিয়ে। প্রকল্পের প্রায় কুড়ি শতাংশ জমি দেওয়ার প্রশ্নে আন্দোলনে নেমেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। রেলের সমস্যা হল, প্রস্তাবিত লাইনের পাশেই পাহাড় থাকায় ওই জমি অধিগ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোনও রাস্তা নেই।
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, ০৩/০৯/২০১৮।