Thursday, May 9, 2019

তামিলনাড়ুতে এক দলিতকে বেঁধে তাঁর গায়ে প্রস্রাব, খাওয়ানো হল মানুষের মল।

দলিত এক ব্যক্তিকে জোর করে খাওয়ানো হল মানুষের মল। তাঁকে বেঁধে রেখে গায়ে মূত্রত্যাগ করা হল। লজ্জাজনক এই ঘটনার সাক্ষী তামিলনাড়ু। তিন বছরের পুরনো শত্রুতার জেরে এই হামলা বলে জানা গিয়েছে। এমন অপমান সহ্য করতে না-পেরে আত্মহত্যার চিন্তা ঘুরে বেড়াচ্ছে ওই ব্যক্তির মনে।
মাদুরাইয়ের তিরুবন্দুতুরাই গ্রামের ঘটনা। বাড়ি ফেরার পথে দলিত ব্যক্তিকে একটি কাঠের গুঁড়ি ছুড়ে মারে উচ্চবর্ণের মুথু, রাজেশ ও রাজকুমার। টাল সামলাতে না পেরে মোটর সাইকেল থেকে পড়ে গেলে লোকটির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দু জন। রাজেশ ও রাজকুমার লোকটিকে চেপে ধরেছিল, আর তখন জোর করে তার মুখে মানুষের মল ঢুকিয়ে দেয় মুথু। দলিত ব্যক্তিকে বেঁধে রেখে তার উপর মূত্রত্যাগও করা হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় একজন আসছে দেখতে পেয়ে পালায় তিন অভিযুক্ত। আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোট্টুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে FIR দায়েরের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয়রা। জোর করে মল খাওয়ানোর অভিযোগ FIR-এ উল্লেখ করা হলেও পুলিশ তফশিলি ও উপজাতিদের উপর অত্যাচারের আইনে মামলা করেনি বলে অভিযোগ। তিন অভিযুক্ত নাগালের মধ্যে থাকলেও শুধু মুথুকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা। আক্রান্ত ব্যক্তিকে তিরুভারুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বছর তিনেক আগে অভিযুক্তদের দ্বারা আক্রান্ত এক দলিত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আক্রান্ত ব্যক্তি। সেই রোষেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদ সৌজন্য - EiSamay.Com, May 8, 2019।

পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রতীক লক্ষ্মী মুর্মু স্মৃতি শিশু বিদ্যালয়।


পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দুই আদিবাসী কন্যার সংগ্রামের প্রতীক লক্ষ্মী মুর্মু স্মৃতি শিশু বিদ্যালয়।

দিল্লির এক সাংবাদিক দেশের নানা রাজ্যে ঘুরে ঘুরে সন্ধান করছিলেন যে একসময় যে সব মেয়েদের ধর্ষিত, নির্যাতিত হওয়ার খবর কখনও প্রকাশিত হয়েছে, আলোড়ন ফেলেছে, খবর থেকে হারিয়ে যাওয়ার পরে তাঁরা কেমন আছেন? দেশের নানা রাজ্যে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলেন দিল্লির সাংবাদিক। এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গেও। কিন্তু বেশ কিছু এমন মেয়েকে খুঁজেই পাননি। বলেছিলেন, ‘‘কেবল পশ্চিমবঙ্গেই দেখলাম, যে মেয়ে ধর্ষিত হয়েছেন, সে আর গ্রামে থাকেন না। অনেকের পরিবারও নিরুদ্দেশ। কোথায় আছে, তা-ও কেউ বলতে পারেন না।’’
শুধু ধর্ষণ কেন, মনীষা পৈলানের মতো যে মেয়েরা অ্যাসিডে আক্রান্ত, তাঁরাও গ্রামে ফিরতে পারেননি। অন্য কোথাও আশ্রয় নিয়ে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন। এ রাজ্যে ধর্ষণ-নির্যাতনের মোকাবিলা মানে, মেয়েটাকে সরিয়ে দেওয়া। তাঁকে মুছে দিলেই যেন সমস্যা ঘুচে গেল।
তবে ব্যতিক্রম অবশই আছে। সেই রকম এক উদাহরণের প্রতীক লক্ষ্মী মুর্মু স্মৃতি শিশু বিদ্যালয়।
বাঁকুড়ার এক দরিদ্র ব্লক ছাতনা, তার অতিদরিদ্র আদিবাসী গ্রাম ছাচনপুর। সরকারি খাতায় গ্রামও নয়, শুয়ারা বাকরা গ্রামের একটা পাড়া। সেই আদিবাসী পাড়ার ইস্কুল শুরু সকাল আটটায়। ঢোলা নীল প্যান্ট বা স্কার্ট, মেরুন চেক-কাটা জামা, পিঠে স্কুলব্যাগ, পায়ে চপ্পল, কচি গলার কলতান। বছর তিনেক হল এই পাড়ার পরিচয়, ইস্কুলপাড়া।
লক্ষ্মী মুর্মু কিন্তু ছাচনপুরের মেয়ে নন। তাঁর বাড়ি ছিল শুশুনিয়া পাহাড়ের কোলে হাপানিয়া গ্রামে। বাবা ফরেস্ট গার্ড। যখন ষষ্ঠ শ্রেণি, ছুটিতে হস্টেল থেকে বাড়ি এসেছিল মেয়ে। ভিডিয়ো শো দেখে ফিরছিল দুই সঙ্গীর সঙ্গে। সে যাত্রা আর ঘরে ফেরা হল না। লক্ষ্মীর সংজ্ঞাহীন দেহ নিয়ে যেতে হয়েছিল হাসপাতালে। গণধর্ষণে অভিযুক্ত হয়েছিল ষোলো জন। লক্ষ্মীর বয়স তখন তেরো।
তার পর যা যা হল, সবই ছকে বাঁধা। এলাকার নেতা দাঁড়ালেন অভিযুক্তদের পাশে, মেয়ে গ্রামে ফিরতে পারলেন না। আলাদা এইটুকু, বাবা কেস তুলে নিতে চাইলেও মেয়ে রাজি হননি। মাধ্যমিকের পর লক্ষ্মী কাজ নিলেন একটি অসরকারি সংস্থায়। কৃষির প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ। কিন্তু যাদের খেতে কাজ, তাদের মধ্যেও রয়েছে ধর্ষকদের ভাই-ভেজ। লক্ষ্মীকে সরানোর চাপ দিতে থাকল তারা। সংস্থার কর্তারা পড়ল ফাঁপরে। কাজের এমন ‘ফিল্ড’ নষ্ট হবে? এক দিন সংস্থার কর্তা স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠকে ঢুকতে দিলেন না লক্ষ্মীকে।
সে দিন যে মেয়েটি রুখে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘‘কেন লক্ষ্মীদি থাকবে না মিটিংয়ে?’’ তাঁর নাম রেবা মুর্মু। বাড়ি ছাচনপুর, গ্রামের প্রথম মাধ্যমিক পাশ মেয়ে (২০১১’তেও শুয়ারা বাকরা গ্রামে মেয়েদের সাক্ষরতা চুয়াল্লিশ শতাংশ)। ডানপিটে, খেলাধুলোয় চৌকস, শাড়ি দু’চক্ষের বিষ, প্যান্টালুন পরেন। রেবাও একই সংস্থার কর্মী। সতেরো-আঠেরোর দুই মেয়ে, রেবা আর লক্ষ্মী, পায়ে হেঁটে পাহাড়ি এলাকার চোদ্দোটি গ্রামে গিয়ে গিয়ে তৈরি করেছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠী। গ্রামবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি হয়েছে অফিসঘর। এত শ্রমে যে মেয়ে দল তৈরি করেছেন, দলের মিটিংয়ে তিনি বাদ পড়বেন কেন? জবাবে সংস্থার কর্তা বলেছিলেন, ‘‘এক ফোঁটা কেরোসিনের জন্য এক বালতি দুধ নষ্ট করব?’’ তিন দশক পরেও রেবার চোখ জ্বলে। ‘‘বললাম, আজ ওকে কেরোসিন মনে হচ্ছে, কাল আমাকে মনে হবে।’’ কপর্দকহীন দুই তরুণী কাজ ছেড়ে দিলেন। দু’জনে ফিরলেন ছাচনপুরে। রেবার বাড়িতে থেকে কোর্টে হাজিরা দিতে বাঁকুড়া যেতেন লক্ষ্মী। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে একটা চাকরিও জুটল, যাতায়াত ৪০ কিলোমিটার।
মামলার রায় বেরোল। ষোলো জন অভিযুক্তের দু’জন ফেরার, বাকি চোদ্দো জনের বারো বছর জেল। গোটা তল্লাট বাক্‌রুদ্ধ। এতগুলো পুরুষ, দামি উকিল, নামী নেতার বিরুদ্ধে একা একটা মেয়ে কিছু করতে পারবে, কেউ ভাবেনি। ফের শুরু হল ধমক-চমক। রেবার বাবা ভয় পেলেন। বাইরের মেয়ের জন্য কি নিজের সর্বনাশ করব?
ফের ঘর ছাড়তে হল। সেটা ২০০১, ইস্কুলপাড়া তখন জঙ্গল। সামান্য টাকায় কিছু জমি কিনে দুই মেয়ে নিজেরাই ইট গাঁথলেন, টিন ছাইলেন। বাড়ির উল্টো দিকে এক ফালি জমিতে খেজুরগুঁড়ির উপর তালপাতার ছাউনি খাড়া করলেন। ঘর ঘর থেকে শিশুদের হাত ধরে এনে সেখানে সকাল-বিকেল পড়াতে শুরু করলেন লক্ষ্মী। রেবা শুরু করলেন ‘ছাচনপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি’ গড়ে তোলার কাজ। দু’এক জন করে শিশু থাকতে শুরু করল রেবা-লক্ষ্মীর বাড়িতে। ২০১৪ সালে লক্ষ্মীর ক্যানসারের চিকিৎসা করাতে যখন দু’জনে রওনা দিলেন কলকাতায়, তখন বাইশ জন শিশুকে বাড়ি পাঠাতে হয়েছিল। ছ’মাস পরে ফিরলেন রেবা। একা। আজ সেই বাড়িতে থাকে এগারো জন শিশু। সকালে ফ্যানভাত আলুমাখা খেয়ে স্কুলে যায়। রাস্তার ও পারেই স্কুল।
লক্ষ্মী মুর্মু স্মৃতি শিশু বিদ্যালয় (প্রতিষ্ঠা ২০১৫) সরকারি নথিতে এখনও ‘স্কুল’ হয়নি। তার সাতাশি জন পড়ুয়ার (অর্ধেক আদিবাসী, প্রায় সকলেই গরিব) অধিকাংশের নাম লেখানো সরকারি স্কুলে। সেখানে ওদের তকমা জোটে ‘ফার্স্ট জেনারেশন লার্নার’। কেন আদিবাসী শিশুদের পড়াশোনা হয় না, এলাকার সরকারি ইস্কুলের শিক্ষকদের কাছে তার লম্বা ফিরিস্তি মিলল। যথা, বাবা-মা সচেতন নয়, রোজ স্কুলে পাঠায় না, বাড়িতে পড়ছে কি না দেখে না। সে সব শুনে এসে দাঁড়াতে হয় লক্ষ্মীদির স্কুলে। এখানে মুর্মু, টুডু, সরেন, হেমব্রম শিশুরা যুক্তাক্ষর-কণ্টকিত গদ্য গড়গড় করে পড়ে। ওরা ক্লাস টু। ‘‘গরিবের ছেলেও বিদ্বান হয়, ধনীর ছেলের বিদ্যা হয় না। পরিবেশটা দিতে হবে’’, বললেন রেবা।
কিন্তু লক্ষ্মী মুর্মুর নামে ইস্কুল কেন?
‘‘তার মধ্যে লড়াই করার ইচ্ছে ছিল, প্রতিবাদের সাহস ছিল।’’
সত্যিই তো! পরিবার, প্রতিবেশী, কর্মক্ষেত্রে প্রবল বিরোধিতার মুখে দাঁড়িয়ে যে ন্যায় আদায় করতে পারে, যে অন্যকে অক্ষরজ্ঞান দান করে লড়াই করার ক্ষমতা জোগায়, সে-ই তো শিক্ষক। ছাচনপুরের স্কুলের নামটাই তো একটা শিক্ষা।
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, স্বাতী ভট্টাচার্য, ৯ মে, ২০১৯।

রাজস্থানে স্বামীর সামনেই গণধর্ষিতা হলেন দলিত নারী, গ্রেফতার ১।


রাজস্থান রাজ্যের আলওয়ার জেলার লালওয়াড়ি গ্রাম থেকে তালবৃক্ষ গ্রামে যাবার পথে স্বামীর সামনেই নির্মম ভাবে গণধর্ষিতা হলেন এক দলিত নারী। বেধড়ক মারধর করা হল স্বামীকে। শুধু তা-ই নয়। ধর্ষণের পুরো পর্ব ভিডিয়ো করে ছেড়ে দেওয়া হল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সঙ্গে ভয় দেখানো হল, যদি তাঁরা অভিযুক্তদের নাম-পরিচয় ফাঁস করেন তা হলে খুন করা হবে ওই দলিত দম্পতিকে। ঘটনাটি গত ২৬ এপ্রিল হলেও ভয়ের চোটে তার সাতদিন পর পুলিশে অভিযোগ রুজু করেন ওই দম্পতি। আপাতত এক জন ধৃত।
পুলিশ সুত্রে জানা যায় যে, গত ২৬ এপ্রিল আলওয়ার জেলার লালওয়াড়ি গ্রাম থেকে তালবৃক্ষ গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন ওই বধূ ও তাঁর স্বামী। হঠাৎই পাশ থেকে দু’টি মোটরবাইকে চেপে এসে রাস্তা আটকায় পাঁচ অজ্ঞাতপরিচয় যুবক। তখনই প্রমাদ গুণেছিলেন রাজস্থানের ওই বধূ। কিন্তু আত্মরক্ষার সুযোগটুকু পাওয়ার আগে দু’জনকেই টেনে আড়ালে নিয়ে যায় ওই পাঁচ জন। দু’জন মিলে আটকে রাখে স্বামীকে। আর তাঁর চোখের সামনেই বাকি তিনজন মিলে গণধর্ষণ করে স্ত্রীকে। তার পর সেই তিন জন গিয়ে আটকে রাখে স্বামীকে, বাকি দু’জন গণধর্ষণ করে। পুরো পর্বের ভিডিয়ো হয়। গত সোমবার সে ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হলে ভাইরাল হয়ে যায় সেটি। পুলিশের দাবি, ‘অভিযুক্তরা যখন নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল, তখন ওই বধূ তিন জনের নাম জানতে পেরেছিল - সচিন, জিতু এবং অশোক। বাকি দু’জন অভিযুক্তের নাম তিনি জানতে পারেননি।’ ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা ছাড়াও তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) সংশোধনী আইন, ২০১৫ ধারাতেও মামলা রুজু করা হয়েছে। ১৪টি দল তৈরি করা হয়েছে বাকি অভিযুক্তদের ধরার জন্য।
অভিযুক্তরা এলাকার প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। আর যাদের উপর অত্যাচার চলেছে, তারা দলিত সম্প্রদায়ের। গ্রামবাসীদের একাংশের ক্ষোভ, এ কারণেই পুলিশ এত দিন ধরে গড়িমসি করেছে। কিন্তু খবরটি সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরে আসায় আপাতত সক্রিয় পুলিশ। শেষমেশ নির্যাতিতা ন্যায়বিচার পায় কি না, সেটাই দেখার। (ছবি - প্রতীকী)
সংবাদ সৌজন্য – এইসময়, ০৮/০৫/২০১৯।

Wednesday, May 8, 2019

মুণ্ডা সমাজের উদ্যোগে পারম্পারিক সামাজিক পদ 'পাহান' এর প্রশিক্ষণ শিবির।


আদিবাসী সংগঠন ভারত মুণ্ডা সমাজের উদ্যোগে মুণ্ডা সমাজের পারম্পারিক সামাজিক পদ 'পাহান' এর প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন করা হয়েছে আগামী ২১ শে মে, ২০১৯ থেকে ২২ শে মে ২০১৯। স্থান - বিরসাডিহি (মুরাইখুঁটি), চন্দ্রী, ঝাড়গ্রাম। সময় সকাল ৭ থেকে রাত্রি ১০ পর্যন্ত। প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা যোগাযোগ করবেন এই নম্বরে - ৮২৫০৮৬১৫৩১, ৮৬১৭৮১৫২৯৫।

মাওবাদী সন্দেহে অন্ধ্রপ্রদেশে পুলিশের গুলিতে দুই আদিবাসী কৃষকের মৃত্যু।


মাওবাদী সন্দেহে অন্ধ্রপ্রদেশে পুলিশের গুলিতে দুই আদিবাসী কৃষকের মৃত্যু, ক্ষুব্ধ জাতীয় আদিবাসী কমিশনের নোটিশ অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের প্রধান সচিব ও পুলিশের ডিজি কে।

গত ১৫ ই মার্চ ২০১৯ অন্ধ্রপ্রদেশের বুরাদামামিডি গ্রামে সন্দেহভাজন মাওবাদীদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালায় অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য পুলিশ ও সিআরপিএফ এর যৌথ বাহিনী। স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন ‘আদিবাসী রিজার্ভেশেন পরিরক্ষনা পোরাতা সমিতি (Adivasi Reservation Parirakshana Porata Samithi)’ এর অভিযোগ এই অভিযানে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য পুলিশ ও সিআরপিএফ এর যৌথ বাহিনী মাওবাদী সন্দেহে দুই আদিবাসীকে গুলি করে হত্যা করে, যারা আদতে মাওবাদী নয়, নেহাতেই সাধারণ আদিবাসী কৃষক। নিহত দুই আদিবাসী হলেন বাট্টি ভূষণ (৫২ বছর) ও সিধারী জমাধার (৩০ বছর)। যদিও যৌথ বাহিনীর দাবী নিহত দুই জন মাওবাদী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছে যৌথ বাহিনী যার জেরে মৃত্যু হয়েছে দুই জনের। অন্য দিকে আদিবাসী সংগঠনের দাবী যে তাঁরা লক্ষ্য করেছেন যে গুলি একতরফা ভাবে চলেছে।
আদিবাসী সংগঠন এই বিষয়টি নিয়ে জাতীয় আদিবাসী কমিশন (National Commission for Scheduled Tribe) এর দ্বারস্ত হয় ও সমস্ত ঘটনার তদন্ত সিবিআই এর হাতে তুলে দেবার দাবী জানিয়েছে। জাতীয় আদিবাসী কমিশন অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের প্রধান সচিব ও পুলিশের ডাইরেক্টর জেনারেল কে নোটিশ পাঠিয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। সমস্ত বিষয় ও কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা ৩০ দিনের মধ্যে জাতীয় আদিবাসী কমিশনকে জানাতে নির্দেশ জানানো হয়েছে, অন্যথা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে জাতীয় আদিবাসী কমিশন।
সংবাদ সৌজন্য – thenewsminute, May 04, 2019।

Sunday, May 5, 2019

একমাত্র এমএ পাশের চাকরি জোটেনি, মাঝপথে পড়া ছাড়ছেন আদিম আদিবাসী টোটোরা।


ভোটবাজারের গরমে অস্তিত্ব সঙ্কটে টোটো আদিবাসীরা। দেশ এগোচ্ছে, কিন্তু মাত্র ৩৪০ পরিবারের এই আদিবাসী জনজাতি দ্রুত পিছিয়ে পড়ছে। একদিকে উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী সভার প্রতিযোগিতা চলছে মোদী-মমতার। এরই মধ্যে ভুটান সীমান্তে টোটোপাড়ায় শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা। আলিপুরদুয়ারের এই আদিবাসীদের মধ্যে আক্ষেপ, পড়াশোনা করেও চাকরি না জোটায় ‘ড্রপ আউটের’ সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে একমাত্র প্রথম শ্রেণীর স্নাতকোত্তর সদস্যের বেকারত্বের ছাপ পড়ছে পরবর্তী প্রজন্মের ওপরেও। স্নাতকরা পেটের টানে ভুটানে ছুটছেন। সবদিক থেকেই বিপন্ন বোধ করছেন টোটোরা।
১১ এপ্রিল, ২০১৯ আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে নির্বাচন। রাজ্যের প্রথম দফার ভোট আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে। দার্জিলিং বাদেও উত্তরবঙ্গের অন্য আসনে খাতা খুলতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। অন্য দিকে, এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এই লড়াইয়ের আওয়াজ টোটোপাড়ায় পৌঁছে গেলেও তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। টোটোদের এখন একটাই আশঙ্কা, এত লড়াইয়ের পর জাতির উন্নয়ন ফের পিছিয়ে যাবে! পড়াশুনার উন্নয়নের জন্য গ্রামে হস্টেল হয়েছে, এভাবে ‘ড্রপ আউট’ চলতে থাকলে একদিন তারও কোনও মুল্য থাকবে না। রোজের কাজেই আটকে যাবে গোটা জাতি।
টোটো আদিবাসীদের মধ্যে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে একমাত্র প্রথম শ্রেণীর স্নাতকোত্তর ধনঞ্জয় টোটো। টোটোপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে শিলিগুড়ির স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ। তারপর আলিপুরদুয়ার থেকে উচ্চমাধ্যমিক। ডুয়ার্স কলজে থেকে স্নাতক। কলকাতায় ডিপ্লোমা। কিন্তু এত কিছুর পরও বেকার বাড়িতে বসে অলস সময় কাটছে ধনঞ্জয়ের। পড়াশোনার কী হাল টোটোদের? কী বলছেন ধনঞ্জয়? তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “হতাশা গ্রাস করছে টোটোদের। পড়াশোনা করা টোটোদের চাকরি না হওয়ায় পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে পরবর্তী প্রজন্ম। অনেকেই মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। স্বভাবতই আমরা ফের পিছিয়ে যাব। আবার ফিরে যাব আগের অবস্থায়।”
ধনঞ্জয় বলেন, “প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকের জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম। ইন্টারভিউতে পাঁচটা ফুলের নাম জিজ্ঞেস করেছিল। ব্যাস। কিন্তু চাকরি হয়নি। দীর্ঘ সাত বছর হতে চলল এসএসসি নিয়োগের পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখনও এসএসসিতে বসার কোনও সুযোগ পাইনি। আর স্বাস্থ্য দফতরে একবার লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ করবে শুনে আবেদন করেছিলাম। ইন্টারভিউও দিয়েছিলাম। খুব ভাল ইন্টারভিউ হয়েছিল। সেখানে আবার বিশেষ কারণবশত অন্যদের চাকরি হয়েছিল, আমার হয় নি। জানি না কি হবে।” একমাত্র এমএ পাশের এই হাল দেখে অনেকেই স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এছাড়া আরও জনাদশেক বিএ পাশ করে বেকার বসে রয়েছেন।
টোটোপাড়াতেই রয়েছে একটি গ্রন্থাগার। সেই গ্রন্থাগারে গত ১০ বছর ধরে লাইব্রেরিয়ান নেই, জানালেন ধনঞ্জয়। তাঁর মতে, “এই লাইব্রেরিতে অস্থায়ী ভাবেও তো নিয়োগ করতে পারত। টোটোদের মধ্যে একমাত্র লাইব্রেরি সায়েন্সে এমএ প্রার্থীকে টোটোপাড়ার গ্রন্থাগারে নিয়োগ করা যায় না? তাতে জাতির উন্নয়নও সহজ হত। চোখের সামনে এই কর্মসংস্থান দেখলে ড্রপ আউট আটকানো সহজ হত।” রাজ্যের মন্ত্রীদের কাছে হাজারো আবেদন করলেও সাড়া পান নি, জানান ধনঞ্জয়।
২০১৩ সালের স্নাতক তিলে টোটো। চাকরি না পেয়ে অন্নের সংস্থানে ভুটানে যাতায়াত করেন। তিলে টোটো বলেন, “পড়াশোনা করে কী লাভ? আমরা কোনও চাকরি না পাওয়ায় গ্রামে ড্রপ আউটের সংখ্যা বাড়ছে। নবম-দশম শ্রেণীতেই পড়া ছেড়ে দিচ্ছে অনেকেই। এটা ট্রেন্ডে পরিনত হয়ে যাচ্ছে। গ্রামের অনেকেই আমার মত রোজগারের জন্য শ্রমিকের কাজ নিয়ে ভুটান চলে যাচ্ছে।” বিএ পাশ তিলে জানালেন, “আমি ভুটানের লোকচিনায় এলাচ কাটার কাজ করছি। ৩০০ টাকা হাজিরা। আমার মত এখানকার অনেকে ভুটানে রোজের হিসাবে কাজ করতে যায়। এছাড়া কোনও উপায়ও নেই।”
চার বছর বয়সে বাবাকে হারান সূর্যন টোটো। অতিকষ্টে বিএ পাশ করেছেন সূর্যন। সর্বত্র ছুটে বেড়াচ্ছেন একটা চাকরির আশায়। তাঁর মধ্যেও বিমর্ষের ছাপ। সূর্যনেরও একই আক্ষেপ, “এভাবে চললে জাতিটা ফের পিছিয়ে পড়বে।” লগন টোটো দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় পড়া ছেড়ে দেয়। তার মতে, “দাদারা পড়াশুনা করে চাকরি পায়নি। রোজের কাজ করেই যখন খাবার জোটাতে হবে তখন পড়াশোনা করে কী হবে? তাই আমিও পড়া ছেড়ে দিয়েছি।” এমন উদাহরণ রোজ তৈরি হচ্ছে পাহাড়ের কোলের এই আদিম আদিবাসীদের গ্রামে। টোটোপাড়ার বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, “আমরা তফশিলি উপজাতিভুক্ত। যেহেতু আমাদের সংখ্যা সারা বিশ্বে মাত্র দেড় হাজারের একটু বেশি, অনেক লড়াই করে পড়াশোনা করতে হয়। সেক্ষেত্রে চাকরির নিয়োগে বিশেষ ছাড় দিতে পারত সরকার। কিন্তু মন্ত্রী-নেতাদের আত্মীয়-স্বজন সে সুযোগ পেলেও আমরা বঞ্চিত। আমাদের পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
টোটো আদিবাসীদের বাস একমাত্র টোটোপাড়ায়। জলদাপাড়া বনাঞ্চলের উত্তরপ্রান্তে বেশ কয়েকটি গ্রাম নিয়ে এই অঞ্চল। এখনও প্রায় শ’দুয়েক মানুষ টোটো ভাষায় কথা বলেন। তাঁরা বাংলা জানেন না। স্থানীয় বাসিন্দা অশোক টোটো জানান, “এখানে রয়েছে মোট ৩৪০টি টোটো পরিবার। মোট জনসংখ্যা ১,৬০৮। প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও কোনও সরকারি বাস চলে না। একটি বেসরকারি বাস চলাচল করে। উচ্চবিদ্যালয়ের জন্য পড়তে যেতে হয় মাদারিহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে। বাসে যাতায়াতের খরচ ৪০ টাকা। গ্রামে হাইস্কুলের অনুমতি মিললেও এখনও পড়া চালু হয়নি।”
ধনঞ্জয় টোটোর বাবা ধনীরাম টোটো। ড্রপ আউটের সংখ্যা বাড়লেও জাতিসত্ত্বার অস্তিত্ব বজায় রাখতে লড়াই করছেন তিনি। বছর দুয়েক আগে আবিষ্কার করেন টোটো লিপি। তিন মাসের প্রচেষ্টায় ৩১টি অক্ষর সৃষ্টি করেছেন তিনি। ধনীরামের মতে, “টোটোদের জন্য একেবারে স্বতন্ত্র লিপি তৈরি করেছি। জাতিসত্ত্বাকে রক্ষা করতে হলে নিজস্ব লিপির প্রয়োজন। সেই চেষ্টাই করেছি। আমাদের পৃথক ভাষা রয়েছে। বিশ্বে অনেক উপজাতি রয়েছে যাদের ভাষা থাকলেও লিপি নেই। এই লিপির চর্চা চলছে।” তাঁর আরও বক্তব্য, “ঠিকমত চর্চা হলে সংযোজন-বিয়োজন হত। ঘষামাজা করলেই আরও উন্নত হত এই অক্ষর। এই ভাষার জন্য চাকরি হয়ত হবে না, কিন্তু নিজস্ব সত্ত্বা তৈরি হত টোটোদের।” আর এই লিপি একেবারেই নতুন, কারও সঙ্গে মিল নেই বলেই দাবি ধনীরামের।
মাদারিহাট থেকে টোটোপাড়ার দূরত্ব ২২ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি থেকে প্রায় দেড়শো কিলোমিটার। যাত্রাপথে বেশ কয়েকটি নদী পার হতে হয়। নদীর ওপর দিয়েই গাড়ি চলাচল করে। বর্ষায় গাড়ির যাতায়াত বন্ধই থাকে। যাত্রাপথ অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য়ে ভরপুর। আর টোটোপাড়া যেন একেবারে ক্যানভাসে আঁকা ছবির মত। অমোঘ অপরূপ আকর্ষণ ভুটানের কোলের এই আদিবাসীদের গ্রামে। টোটোপাড়া থেকে ভুটান সীমান্তের দূরত্ব মাত্র দেড় কিলোমিটার। গ্রাম জুড়ে সুপারি গাছের সারি। কাঠের বাড়ি। কিন্তু বহির্জগতের সেই সৌন্দর্যের কোনও প্রতিফলন নেই টোটোদের বর্তমান দৈনন্দিন জীবনে।
সৌজন্য – iebangla, The Indian Express, Joyprakash Das, Apr 10, 2019.

Saturday, May 4, 2019

আদিবাসী সমাজের বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানের জন্য মজুত হাড়িয়া নষ্ট করল আবগারি দপ্তর।

আদিবাসী সমাজের বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানের জন্য মজুত হাড়িয়া নষ্ট করল আবগারি দপ্তর, প্রতিবাদে ৪ ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ আদিবাসীদের।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর থানার বৈরাঠায় আদিবাসীদের সামাজিক অনুষ্ঠানে আবগারি দপ্তরের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরই প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে হরিরামপুরের বৈরাঠায় স্থানীয় আদিবাসী পরিবারের লোকেরা রাস্তা অবরোধ করেন। ওই অবরোধে নব দম্পতিও শামিল হন। টানা চার ঘণ্টা অবরোধ চলার পর পুলিসের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর থানার বৈরাঠায় এক আদিবাসী যুবকের বিয়ের অষ্টমঙ্গলায় নববধূর পরিবারের আত্মীয়দের এদিন জামাই বাড়িতে আমন্ত্রণ ছিল। সেই মতো বরপক্ষ আদিবাসী রীতি মেনে হাড়িয়া তৈরি করে। এছাড়াও মাছ, মাংস খাওয়ানোর আয়োজন চলছিল। কিন্তু অভিযোগ, জেলা আবগারি দপ্তর ও মালদহ আবগারি রেঞ্জ সকালে অভিযান চালিয়ে অনুষ্ঠানবাড়িতে মজুত হাড়িয়া নষ্ট করে দেয়। ওসব তৈরির সামগ্রী ও হাড়িয়া বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়। এতেই স্থানীয় আদিবাসী পরিবারগুলি ক্ষিপ্ত হয়ে সকাল ১০টা থেকে হরিরামপুর-বৈরাঠা গ্রামীণ রাস্তা অবরোধ করে। এতে ওই রাস্তা ব্যবহারকারীরা দুর্ভোগে পড়েন। হরিরামপুর থানার পুলিস পৌঁছে বেলা ২টো নাগাদ তাঁদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে দেয়।
আদিবাসী সমাজের গ্রাম প্রধান মাঝি বাবা জয়রাম হেমব্রম বলেন, গত শুক্রবার পাড়ার ছেলে নিতাই বেসরার সঙ্গে বেজপুকুরের শেফালী বাস্কের বিয়ে হয়। আমাদের আদিবাসী সমাজের রীতি অনুযায়ী বিয়ের সাতদিন পরে কনেপক্ষকে বরপক্ষ নিমন্ত্রণ করে খাওয়ায়। ওই অনুষ্ঠানে হাড়িয়া খাওয়ানো হয়। কিন্তু এদিন সকালে আবগারি দপ্তর বিয়েবাড়িতে এসে তাণ্ডব চালায়। বানানো হাড়িয়া নষ্ট করে দেয়। কিছু হাড়িয়া নিয়েও যায়। বাড়ির মহিলারা তাঁদের অনুরোধ করলেও অভিযানে আসা কর্মীরা তা শোনেননি। এরই প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তা অবরোধ করে।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা আবগারি দপ্তরের সুপারিনটেনডেন্ট শুভেন্দু শেঠ বলেন, হরিরামপুরের বৈরাঠায় এদিন সকালে আমাদের একটি দল অবৈধভাবে মজুত চোলাই মদের কারবার বন্ধ করতে অভিযানে যায়। ওই অভিযানে মালদহ বিভাগের অফিসাররাও ছিলেন। একটি আদিবাসীর বাড়িতে রাখা হাড়িয়া নষ্ট করে দেওয়া হয়। প্রায় ৪০ লিটার হাড়িয়া বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আমরা পরে যখন জানতে পারি সেখানে আদিবাসীদের বিয়ে উপলক্ষে অনুষ্ঠান চলছে তখন বেরিয়ে আসি। পরবর্তীতে শুনেছি সেখানে বিক্ষোভ হয়েছে। আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে।
গঙ্গারামপুরের এসডিপিও বিপুল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বৈরাঠায় অদিবাসী সমাজের বিয়ের অনুষ্ঠানে সমস্যার খবর পেয়ে সেখানে পুলিস কর্মীরা যান। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হয়। তাঁরা রাস্তা অবরোধ করেছিলেন। তাঁদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে দেওয়া হয়।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর থানা বৈরাঠায় আবগারি দপ্তর আদিবাসীদের বিয়ের অনুষ্ঠানে মজুত হাড়িয়া নষ্ট করায় এদিন স্থানীয় শতাধিক আদিবাসী তীর, ধনুক ও মাদল নিয়ে রাস্তায় চলে আসে। বাড়ির মহিলারা ঝাঁটা নিয়ে প্রতিবাদে শামিল হন। তাঁরা সকলে হরিরামপুর-বৈরাঠা গ্রামীণ সড়কে গাছ ফেলে দিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। রাস্তা অবরোধের জেরে গ্রামের সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। আদিবাসীদের পাশাপাশি গ্রামের সাধারণ মানুষও পরে ঘটনা স্থলে গিয়ে তাঁদের আন্দোলনে যুক্ত হন। তাঁরা সকলেই আবগারি দপ্তরের আধিকারিকদের সেখানে আসার দাবি জানাতে থাকেন। হরিরামপুর থানার পুলিস ঘটনা স্থলে গিয়ে আদিবাসী সমাজের স্থানীয় প্রধানের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। বেলা ২টো নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সংবাদ সৌজন্য – বর্তমান পত্রিকা, ০৪/০৫/২০১৯।