আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযান (পুরুলিয়া জেলা
কমিটি) এর উদ্যোগে পুরুলিয়ায় বিশাল আদিবাসী সমাবেশ। তারিখ - ২০/১২/২০১৭ (বুধবার), স্থান
- কাঁটাডি হাট তলা ফুটবল ময়দান, আড়সা, পুরুলিয়া। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত
থাকবেন শালখান মুরমু (সভাপতি, ঝাড়খণ্ড দিশম পার্টি ও আদিবাসী সেঙ্গেল
অভিযান)। সেই সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন অন্যান্য রাজ্য
ও জেলার আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযান ও ঝাড়খণ্ড দিশম পার্টির নেতৃবৃন্দ।
Tuesday, December 5, 2017
Monday, December 4, 2017
পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী মেয়েদের ধর্ষণ করে দুষ্কৃতীরা পার পেয়ে যাচ্ছে তৃণমূলের জন্য, বলে অভিযোগ বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের।
আগরতলা: ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি'র
নারী মোর্চার উদ্যোগে গোমতী জেলা সদর উদয়পুরে প্রদেশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘বিদায়
শঙ্খনাদ’ শীর্ষক এই সম্মেলনে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ নারী মোর্চা
সভানেত্রী অভিনেত্রী লকেট চট্টপাধ্যায়, ত্রিপুরা প্রদেশ কমিটির সভাপতি বিপ্লব
কুমার দেব, নারী মোর্চার সভানেত্রী পাপিয়া দত্ত, সহসভাপতি সুবল ভৌমিক, সম্পাদিকা
সাধারণ প্রতিমা ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক রাজীব ভট্টাচার্য্য, বিধায়ক প্রাণজিৎ সিংহ রায়, নারী
নেত্রী কল্যানী রায় প্রমুখ।
লকেট চট্টপাধ্যায় তার বক্তব্যে বলেন, ভারতের
মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্য নারী নির্যাতনে প্রথম। এই রাজ্যে ৮৬ শতাংশ নারীর উপর
নির্যাতন হয়। গড়ে প্রতিদিন ৫ শতাংশ নারীর উপর নির্যাতন হয়। তিনি বলেন, দেশের
মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা রাজ্যের রাজনীতি একই দিকে চলছে। ত্রিপুরা রাজ্যের
মানুষ বড় ব্যথার মধ্যে রয়েছেন। গোবিন্দ মানিক্যের সময় এ রাজ্যে রক্তপাত বন্ধ
হয়েছিলো। সেই রক্ত সিপিআই (এম) দল আবার ফিরিয়ে এনেছে কি? ত্রিপুরা
ও পশ্চিমবঙ্গে ভাই-বোনের সরকার চলছে। তারা উন্নয়ন করছে ধর্ষণ ও চিটফান্ডের।
পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী মেয়েদের ধর্ষণ করে পার পেয়ে যাচ্ছে তৃণমূলের জন্য। একই ভাবে
ত্রিপুরা রাজ্যে পার পেয়ে যাচ্ছে সিপিআই (এম) দলের জন্য। তাই প্রয়োজনে নারীদের
হাতে অস্ত্র তুলে নিতে হবে। কারণ, পুলিশ নারীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
লকেট বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। আর মানিক সরকার
রাজ্যকে ঠিক উল্টো দিকে টেনে নিচ্ছেন। তাই খুব দ্রুত ত্রিপুরায় বিজেপি’র
সরকার আসছে। ত্রিপুরা রাজ্যের এই পরিবর্তন পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে যাবো।
ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি সভাপতি বিপ্লব
কুমার দেব বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোট মানিক সরকারের ঝুলিতে যাচ্ছে না। ত্রিপুরা রাজ্যে
বিজেপি সরকার এলে তাঁত শিল্পকে আবার উজ্জীবিত করা হবে। ত্রিপুরা প্রদেশ মহিলা
মোর্চার সভানেত্রী রাজ্যে ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতনের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে
বলেন, রাজ্যের নারীরা ভোটের মাধ্যমে এই নির্যাতনের প্রতিশোধ নেবে।
সম্মেলনে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে
প্রচুর সংখ্যক নারীর সমাগম হয়।
সৌজন্য – banglanews24.com, ডিসেম্বর ৩, ২০১৭।
শান্তিনিকেতনে ১০০ টি আদিবাসী পরিবারকে পাকা বাড়ি, ৩০ জন আদিবাসী পরিবারকে পাট্টা প্রদান করা হল।
বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতন সারা বিশ্বে
বিখ্যাত। এখানেই গড়ে উঠেছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বপ্নের শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান ‘বিশ্বভারতী’। আশ্রমিক এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবাদে শান্তিনিকেতন
সারা বিশ্বে অতি পরিচিত নাম। দেশ বিদেশের বিভিন্ন নামী দামী ব্যক্তিত্ব, সংস্থা
প্রতিনিয়ত শান্তিনিকেতনে আসেন আর তাই শান্তিনিকেতন এক উন্নত এলাকা। কিন্তু
প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতন শান্তিনিকেতন সংলগ্ন আদিবাসী গ্রামগুলি দীর্ঘদিন ধরে
অন্নুয়নের অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল। কেও কোনদিন এই আদিবাসীদের কথা ভাবেনি, তাদের
উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নেয়নি। ২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায় বোলপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করতে এলে হত দরিদ্র আদিবাসী গ্রামগুলিকে
দেখতে পান। এখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদিবাসী মানুষদের দুই
টাকা কেজি দরে চাল দেবার ঐতিহাসিক ঘোষণা করেন। সেইদিনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
আদিবাসী গ্রামগুলির মানুষদের প্রতিশ্রুতি দেন যে আগামী দিনে তাদের পাকা বাড়ি তৈরি
করে দেবেন, এলাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণ করবেন, অন্যান্য উন্নয়নের কাজ করবেন। সেইমত
স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়ে যান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতিকে মর্যাদা দিয়ে প্রশাসন তিনটি আদিবাসী গ্রামের ১০০
জন পরিবারকে পাকা বাড়ি ও ৩০ টি পরিবারকে জমির পাট্টা তুলে দিয়েছে।
সৌজন্য – সংবাদ প্রতিদিন, ০৪/১২/২০১৭।
প্রতিবন্ধী মেয়েদের স্বাবলম্বী করার পথ দেখাচ্ছে মানবাজার থানার মাঝিহিড়া বুনিয়াদি আশ্রম।
মানবাজার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭।
একটা পা জন্ম থেকে ছোট। তা বলে বরাবাজারের
জিলিং গ্রামের তরুণী পার্বতী মাহালি বসে নেই। তিনি নিজে প্রতিবন্ধী হলেও এখন
প্রতিবন্ধীদের ট্রেনিং স্কুলে তিনিই দিদিমণি। তিনিই অন্য মেয়েদের হাতে ধরে
শেখাচ্ছেন কী ভাবে নকল গয়নায় পাথর বসাতে হয়। তাঁর কাছে কাজ শিখছেন বোরো থানার
জাওড়া গ্রামের ক্ষীণদৃষ্টির লক্ষ্মী গড়াই, দুর্ঘটনায় পায়ের পাতা উল্টে যাওয়া
বরাবাজারের লাকা গ্রামের গীতাঞ্জলী মাহাতো, লক্ষণপুর গ্রামের হাতের সমস্যা থাকা
দীপিকা মাহাতোরা। শুধু নকল গয়নাই নয়, খাম তৈরি থেকে মেশিনে মশলা গুঁড়িয়ে
প্যাকেটজাত করা, খাতা তৈরির কাজও হাতে-হাতে শিখছেন ওঁদের মতো অনেক প্রতিবন্ধী মেয়ে। আর ওঁদের
স্বাবলম্বী করার পথ দেখাচ্ছে মানবাজার থানার মাঝিহিড়া বুনিয়াদি আশ্রম।
ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে উজ্জ্বল মানভূম
জেলায় সত্যাগ্রহীদের অন্যতম কেন্দ্র এই আশ্রমে গত কয়েক বছর ধরে এই কর্মকাণ্ড শুরু
হয়েছে। রবিবার বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবসে সেই আশ্রমে প্রশিক্ষণ প্রাপ্তেরা তাঁদের
হাতের কাজের নমুনা পেশ করলেন। একই সঙ্গে দিনভর নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও চলল।
মাঝিহিড়া আশ্রমের কার্যকরী সম্পাদক প্রসাদ
দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘কয়েক বছর আগে থেকে কাজ শুরু করলেও ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী
গড়তে পুরোদমে আশ্রমে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। জেলার তিনটি ব্লকের প্রতিবন্ধীদের
এখানে বিভিন্ন বিষয়ের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।’’ তিনি জানান, দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধীরা গোটারি, পোল্টি
প্রভৃতি প্রকল্পও করছেন। প্রসাদবাবু জানান, বিভিন্ন বিষয়ে এ পর্যন্ত ৮৪ জন প্রশিক্ষণ
পেয়েছেন। বর্তমানে ৩০ জন গয়নার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধীদের নিয়ে
দৃষ্টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কো-অপারেটিভ গড়া হয়েছে। কাঁচামালের জন্য এখান থেকে টাকা
পাওয়া যায়। পরে লভ্যাংশ রেখে বাকি টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে মানবাজার ১ ও
২ এবং বরাবাজার ব্লকের প্রতিবন্ধীদের নিয়ে এই জীবিকা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চলছে।
আগামী দিনে এর পরিধি বাড়ানো হবে।
এ দিন উদ্বোধনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা
সংসদের সভাপতি হেমন্ত রজক বলেন, ‘‘প্রতিবন্ধীদের নিজের পায়ে দাঁড় করানোর
জন্যে এমন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এই জেলায় বিরল।’’ ব্যাঙ্কিং সংস্থার পক্ষে কেন্দ্রীয়
সরকারের রুরাল সেলফ এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা সোমনাথ
গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা যাতে প্রশিক্ষণ পেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, সে
জন্য আমি নিজেও কয়েকদিন এখানে থেকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি।’’ অনুষ্ঠানে
মানবাজার মহকুমা অফিসের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মৃদুল শ্রীমানি, বিডিও
(মানবাজার ১) নীলাদ্রি নিলাদ্রী সরকার, বামনি মাঝিহিড়া সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান
নবেন্দু মাহালি, মানভূম কলেজের অধ্যাপক প্রদীপ মণ্ডল, মানবাজারের সিআই (পুলিশ) সুবীর কর্মকার
প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, ০৪/১২/২০১৭।
পুরুলিয়ায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক শুভজিত মাহাতোর মুক্তি চেয়ে পথে জনতা।
পুরুলিয়া, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭।
মুকুল রায়ের ছায়াসঙ্গীর ভাইকে গাঁজা
পাচারের অভিযোগে গ্রেফতারের রেশ কিছুতেই কাটছে না। প্রাথমিক স্কুলের ওই শিক্ষক
শুভজিৎ মাহাতোর গ্রেফতারি নিয়ে এলাকার অনেকের ক্ষোভ ছিলই। রবিবার তাঁরা শুভজিতের
সুবিচার চেয়ে পথে নামলেন। মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ
তুলে চাষমোড়ে তাঁরা প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। পুরুলিয়া মফস্সল থানার গাড়াফুসড়
পঞ্চায়েত সংলগ্ন মাঠে ধিক্কার সভাও করেন তাঁরা। সেখানে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের
দাবি ওঠে।
সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন পুরুলিয়া নাগরিক
কমিটির ব্যানারে ওই মিছিল হলেও, সেখানে যেমন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের
নেতৃত্বকে দেখা গিয়েছে, তেমনই পা মিলিয়েছেন কলেজ পড়ুয়া থেকে সাধারণ গৃহবধূও। দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে
প্রতিবাদে সামিল হতে দেখা গিয়েছে এলাকার কিছু ব্যবসায়ীকেও। যদিও পুলিশ সুপার জয়
বিশ্বাস আগেই জানিয়েছেন, গাঁজা পাচারের সময় হাতেনাতেই শুভজিৎকে ধরা হয়। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘সভার
কথা জানি না।’’
গত ২৯ নভেম্বর ভোরবেলায় মুকুল রায়ের
ছায়াসঙ্গী সুরজিৎ মাহাতোর ভাই স্থানীয় বাঁধডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শুভজিৎকে
গ্রেফতার করে পুরুলিয়া মফস্সল থানার পুলিশ। পুলিশের দাবি ছিল, পুরুলিয়া-রাঁচি
রাস্তায় নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে নম্বর প্লেটহীন একটি
মোটরবাইকে শুভজিৎ ও ধানবাদের পাথরডি-র উমেশ মাহাতোকে ২৩ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা-সহ
গ্রেফতার করে। যদিও তাঁর পরিবারের দাবি, ভোরে পুলিশ এসে দরজা ঠকঠক করে শুভজিতের
ডাকনাম ধরে জানতে চেয়েছিল, তিনি বাড়িতে রয়েছেন কি না। তাঁর স্কুলে চুরি হয়েছে জানিয়ে বাড়ির লোকজনকে বলা
হয়ে সেই ব্যাপারে থানার বড়বাবু তাঁর সঙ্গে আলাদা কথা বলবেন। তারপরেই শুভজিৎকে
গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায় পুলিশ। শুভজিতের বাবার দাবি, পাচার
তো দূরের কথা, তাঁর ছেলে গাঁজা দেখলে চিনতেও পারবেন না। মুকুল রায়-যোগ থাকার জন্যই মিথ্যা
অভিযোগে শুভজিৎকে ধরা হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। মুকুলও অভিযোগ তুলেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে
পুলিশরাজ চলছে। কয়েক হাজার যুবক যুবতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নেই বলে তাঁদের
নারকোটিক কেস দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। পুরুলিয়াতেও তাই হয়েছে। ওই ছেলেটির মোবাইল
টাওয়ার এবং যে পুলিশকর্মীরা তাঁকে গ্রেফতার করেছেন তাঁদেরও মোবাইল টাওয়ারের
অবস্থান খতিয়ে দেখা হোক।’’
তেমনই মনে করছেন এ দিন পথে নামা মানুষজনও।
পুলিশের তথ্য তাঁরা মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, শুভজিৎ নোংরা রাজনীতির শিকার। তাই
অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছেন তাঁরা। প্রতিবাদ চলছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও।
রবিবারের ধিক্কার সভার আহ্বায়ক স্থানীয়
গ্রাম পঞ্চায়েতের দীর্ঘ ২৫ বছরের কংগ্রেস প্রধান জন্মেঞ্জয় মাহাতো দাবি করেন, ‘‘ছেলেটিকে
বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। শুভজিৎ যে গাঁজা পাচারে
জড়িত থাকতে পারে, সে কথা এলাকার একজন মানুষও বিশ্বাস করছেন না। পুলিশ অন্যায় করেছে।’’
আদিবাসী কুড়মি সমাজের নেতা অজিত মাহাতো
বলেন, ‘‘এই প্রতিবাদ সভা দেখে যাঁরা এই চক্রান্তের পিছনে, তাঁদের
কাছে নিশ্চয়ই বার্তা পৌঁছে গিয়েছে। শুভজিতের মুক্তির দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হল।’’ তিনি
জানান, আগামী শুক্রবার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে প্রথমে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
তারপরে প্রশাসনের অবস্থান দেখে তাঁরা পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন।
এ দিনের সভায় প্রাক্তন বিজেপি নেতা রাজীব
মাহাতো বলেন, ‘‘পুলিশের পুরো দাবিই গাঁজাখুরি মনে হচ্ছে। শুভজিতের বাড়ির কাছে রেলের লেভেল
ক্রসিংয়ে সিসিক্যামেরা রয়েছে। পুলিশের গাড়ি এসে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে থাকলে, তা
ওই ক্যামেরার ফুটেজ ধরা পড়ে যাবে। এই তথ্য যথাস্থানে জানানো হয়েছে।’’
একই সুর শোনা গিয়েছে গাড়াফুসড় গ্রাম
পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান কমলাকান্ত মাহাতোর কথাতেও। তিনি আবার মন্ত্রী
শান্তিরাম মাহাতোর সম্পর্কিত ভাই। এ দিনে সভায় তিনি বলেন, ‘‘শুভজিতের
বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কেউ বিশ্বাস করছেন না। ওঁর মুক্তি চাই। নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।’’
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভজিতের বাবা
সুবোধ মাহাতো কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন ‘‘এত মানুষ আমাদের পাশে রয়েছেন। সকলের প্রতি
কৃতজ্ঞতা। আমি এখনও বলছি আমার ছেলে নির্দোষ। সত্যটা এক দিন প্রমাণিত হবেই।’’
এ দিনের সভায় না থাকলেও পাশে দাঁড়িয়েছেন
জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো। তিনি বলেন, ‘‘পুরুলিয়ায় এমন নোংরা রাজানীতি ছিল না।
রাজনীতির সুস্থ পরিবেশ নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’’
স্থানীয় বাসিন্দা ঋষিপদ গোপও থেকে কলেজ
ছাত্রী সাগরিকা মাহাতো বা গৃহবধূ রাধিকা মাহাতো, সুমিত্রা মাহাতো-সহ সকলেরই বক্তব্য, ‘‘আমরা
সুবিচার চাই।’’
সেটাই ভাবাচ্ছে শাসকদলের একাংশকেও। এত দিন
প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন শুভজিতের পরিবার। কিন্তু এ দিন তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন
এলাকার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষজন। পঞ্চায়েত ভোটের আগে গ্রেফতার-কাণ্ড নিয়ে এ ভাবে
জলঘোলা হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছেন শাসকদলের জেলা নেতৃত্ব। জেলা তৃণমূল সভাপতি
শান্তিরাম মাহাতোর ঘটনা সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করছেন না। এ দিন তৃণমূলের জেলা
সাধারণ সম্পাদক নবেন্দু মাহালি বলেন, ‘‘প্রতিবাদ মিছিল ও সভার কথা শুনেছি। গোটা
ব্যাপারটা নিয়ে এলাকার নেতৃত্বের কাছে খোঁজ নেব।’’
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, ০৪/১২/২০১৭।
সাঁতরাগাছিতে আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৃত্য প্রতিযোগিতা।
আগামী ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ সাঁতরাগাছি আদিবাসী কালচারাল ও
রিক্রিয়েশন ক্লাব এর উদ্যোগে এক আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আদিবাসী নৃত্য
প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আদিবাসী নৃত্য প্রতিযোগিতাটি পরিচালনা করবেন
সাঁতরাগাছি সাগেন সাকাম ডান্স গ্রুপ। নৃত্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেবার প্রবেশ মুল্য
১০০০/- টাকা। নাম জমা দেবার শেষ তারিখ ২০/১২/২০১৭। যোগাযোগ করবেন - আরমান হাঁসদা
(৮২৪০৩৬৪৮৮৩/৭৮৯০৭৬২০৭৪) ও জয়প্রকাশ মুরমু (৯৭৪৮৪৮৩৫০৪)।
Subscribe to:
Posts (Atom)






