Thursday, May 3, 2018

জাত তুলে গালিগালাজ, যৌন হয়রানি ও কুপ্রস্তাব দেবার অভিযোগ কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

ছাত্রছাত্রীদের জাত তুলে গালিগালাজ ও ছাত্রীদের যৌন হয়রানি, কুপ্রস্তাব দেবার অভিযোগ কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকসংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।


নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার নামে কুপ্রস্তাব দেওয়া তো বটেই, ছাত্রছাত্রীদের জাত তুলে কথা বলার অভিযোগও ছিল কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকসংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক তদন্তে তার সারবত্তা মেলার পরে শিক্ষককে ছুটিতে পাঠিয়ে বিশদ তদন্ত শুরু হয়েছে।
গত নভেম্বরে এক ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষক সুজয়কুমার মণ্ডলের নামে লিখিত অভিযোগ জানান। এর পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বসু বিজ্ঞান মন্দিরের (‌বোস ইনস্টিটিউট) এক শিক্ষককে নিয়ে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গড়া হয়। সেই শিক্ষক সুজয় ছাড়াও বিভাগীয় প্রধান, পরীক্ষা নিয়ামক, ১২ জন ছাত্রী-সহ মোট ২১ জনের সঙ্গে কথা বলেন। এক ছাত্রী জানান, সুজয়ের সঙ্গে ‘গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক’ রাখার প্রস্তাব মানতে না পেরে তিনি ‘গাইড’ বদলানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। তাতে সুজয়ের অধীনে এমফিল করা এক ছাত্রকে দিয়ে তাঁকে হুমকি দেওয়া হতে থাকে। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয় যে ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করার কথাও ভেবেছিলেন। তদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, যৌন হয়রানি ও পক্ষপাতের ঘটনা ঘটতে থাকায় মাঝপথে অনেকে পড়া ছেড়ে চলেও গিয়েছেন। ক্লাসে হাজিরা খাতায় পড়ুয়াদের নামের পাশে তাঁদের জাত লিখে রেখেছিলেন সুজয়। অনেককেই জাত তুলে গালিগালাজ করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাংশু রায় বলেন, ‘‘সুজয়কুমার মণ্ডলকে ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এক সদস্যের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনে আরও তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তার পরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’ সুজয় অবশ্য দাবি করেন, যৌন হয়রানি ও জাত তুলে গালিগালাজের অভিযোগ তো নয়ই, তিনি ছুটিতে রয়েছেন কি না, তাও তাঁর জানা নেই। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘‘আমি কিছুই জানি না।’’ পড়ুয়াদের একাংশের প্রশ্ন, তিন সদস্যের কমিটি গড়ে কি সুজয়কে বাঁচানোর পথ খুঁজছে বিশ্ববিদ্যালয়?
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, সুপ্রকাশ মণ্ডল, ৪ মে, ২০১৮।

Wednesday, May 2, 2018

মধ্যপ্রদেশে পুলিশের চাকরি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের শরীরে জাতির নাম লিখে দেবার ঘটনায় বিতর্ক।


যত বার দলিত ক্ষত মেটাতে চাইছেন, তত বার ধাক্কা খাচ্ছেন। নতুন ঘটনা ঘটছে, ফের চুপ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিকতম ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের। বিজেপিশাসিত মধ্যপ্রদেশে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরিপ্রার্থীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা চলাকালীন তফসিলি জাতি ও জনজাতিভুক্ত ব্যক্তিদের ছাতিতে এসসি’, ‘এসটিলিখে দেওয়া হয়েছিল। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী টুইট করে বলেন, ‘‘জাতপাত নিয়ে বিজেপির শুচিবায়ুগ্রস্ত মনোভাব দেশের ছাতিতে ছুরি মেরেছে। এটি সংবিধানের উপর হামলা। বিজেপি-আরএসএসের এই মানসিকতার জন্যই দলিতের গলায় কখনও কলসি ঝোলানো হয়, কখনও ঝাড়ু বাঁধা হয় কিংবা মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হয়না।’’
বহুজন সমাজ পার্টি সভানেত্রী মায়াবতী প্রশ্ন তুললেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী চুপ কেন? এ তো অপরাধমূলক মামলা!’’
মধ্যপ্রদেশ পুলিশ অবশ্য তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটি নিয়ে চুপ থাকলেও আজ দিল্লিতে বুদ্ধজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অম্বেডকর প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। ঘরোয়া স্তরে বিজেপি বলছে, আসলে কনস্টেবল পদে সংরক্ষিত শ্রেণির পদপ্রার্থীরা উচ্চতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসূচকে বিশেষ ছাড় পান। সে কারণেই তাঁদের আলাদা করে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে সেটি অন্য পথেও করা যেত।
গুজরাতের উনাতেই আক্রান্ত দলিত পরিবার-সহ সাড়ে চারশো জন আজ সম্মান’-এর জন্য বৌদ্ধ ধর্ম নিয়েছেন। গুজরাতেরই স্পিকার জ্ঞানীবলে অম্বেডকরকে ব্রাহ্মণবলেছেন। নরেন্দ্র মোদীকেও ব্রাহ্মণআখ্যা দিয়েছেন। বিজেপির এক নেতার হতাশা, ‘‘এত বড় দল, কত জনকে কোথায় কী ভাবে সামাল দেওয়া যায়? আর সব কথাতে প্রধানমন্ত্রী কী করে বিবৃতি দেন?’’
কংগ্রেসের অভিযোগ, এটা আসলে মানসিকতার প্রশ্ন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই এর বাড়বাড়ন্ত।
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, ১ মে, ২০১৮।

রাজস্থানে ঘোড়ায় চড়ায় উচ্চবর্ণের হাতে প্রহৃত দলিত যুবক।


ভাইকে নিয়ে ঘোড়ায় চেপেছিলেন এক যুবক। আর এই অপরাধেএক দলিত যুবককে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটল। অভিযোগ, মারধরের ঘটনায় জড়িত রয়েছে সমাজের উচ্চবর্ণের প্রতিনিধিরাই।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের ভিলওয়ালা এলাকার গোবর্ধনপুরা গ্রামে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। ভিলওয়ালা পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাত জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার বিয়ে ছিল চব্বিশ বছরের ভবনলাল রেগারের। সেই বিয়ে উপলক্ষে গত রবিবার আয়োজন করা হয়েছিল বিন্দোলি অনুষ্ঠানের। একটি শোভাযাত্রার আয়োজনও করা হয়েছিল। সেখানে যোগ দিয়েছিল ভবন এবং তার ছোট ভাই উদয় লাল। তারা ঘোড়ায় চেপেছিল। ভবনের অভিযোগ, শোভাযাত্রার মধ্যেই তাদের উপর চড়াও হয় এক দল যুবক। দলটিতে জনা পঞ্চাশেক লোক ছিল। ভবনের দাবি, হামলাকারীরা তাদের কোনও কথাই শুনতে চায়নি। তার কথায়, ‘‘বাঁশ, ইট পাটকেল দিয়ে আমাদের উপর চড়াও হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ এলেও কোনও লাভ হয়নি। উন্মত্ত গ্রামবাসীদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।’’ ভবনের অভিযোগ, হামলাকারীদের হাত থেকে রেহাই মেলেনি মহিলাদেরও। মারতে মারতে সবাইকে বাড়ির মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় হামলাকারীরা।
যদিও, ভিলওয়ালার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপি জৈন বলেন, পুলিশ কিছু করেনি এটা ঠিক নয়। বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত মার্চে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল গুজরাতে। ঘোড়ায় ওঠার অপরাধে পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল এক যুবককে। আবার গত বছর অক্টোবরে গুজরাতেই গরবা দেখার অপরাধেপিটিয়ে মারা হয় এক দলিতকে।
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, ১ মে, ২০১৮

নিজের খাবার, নিজের প্লেট নিয়ে দলিতের ঘরে ঢুকলেন উত্তরপ্রদেশের বিজেপির মন্ত্রী।


দলিত ভোট এখন বড় বালাই। উচ্চ বর্ণবাদী তকমা ঝেড়ে, ‘আমরা তোমাদেরও লোকবোঝাতে, দলিতদের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি। সাম্প্রতিক এমনই একটি ফোটো শোতে, উত্তরপ্রদেশের এক দলিতের বাড়িতে এলেন বিজেপির এক মন্ত্রী। কিন্তু সেই বাড়িতে তৈরি খাবার মুখেও তুললেন না। রেস্তরাঁ থেকে পালক পনীর, তন্দুরি রুটি, পোলাও, ছোলে ডাল মাখানি, রায়তা, স্যালাড, মিষ্টি এল মন্ত্রীর ভোজন বলে কথা! কিনে আনতে হল নতুন থালা, বাটি, গ্লাস।
উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চরম অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ে গিয়েছে বিজেপি। খোঁচা খেতে হচ্ছে এই তো দলিত প্রেম! অনেকে বলছেন, দলিত পরিবারের খাবার না খেয়ে তাঁদের অপমান করেছেন ষোগী সরকারের মন্ত্রী সুরেশ রানা।
বিজেপির উপরতলার নির্দেশ, দলিতদের মন পেতে তাদের ঘরে যেতে হবে। দলিতদের সঙ্গে বসে খেতে হবে তাঁদের প্রতিদিনের খাবার। কিন্তু সেই পরিকল্পনা যে এ ভাবে বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে, সেটা হয়ত তারা নিজেরাও আঁচ করতে পারেনি দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব।
যে বাড়িতে খেতে গিয়েছিলেন মন্ত্রী, রজনাশ কুমার নামের সেই দলিত গৃহকর্তার দাবি, তিনি কাউকে বাড়িতে  আমন্ত্রণ জানাননি। মন্ত্রী যে তাঁর বাড়িতে আসবেন, সেটাও তাঁকে আগে জানানো হয়নি। এর পর গোটাটাই চমক। মন্ত্রী, তাঁর দলবল এল। সঙ্গে এলাহি খানা খাজানা। ঢেকুর তোলা ভোজন।
কিন্তু দলিতের ছোঁয়া খাবার এড়ানোর জন্যেই কি বাইরে থেকে নানান পদ আনানো হয়েছিল? অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়ে সুরেশ রানার দাবি, তাঁর সঙ্গে অনেকেই ছিলেন। দলিত পরিবারকে বিব্রত করতে চাননি বলেই তিনি খাবার আনিয়েছিলেন বাইরে থেকে।
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, ২ মে, ২০১৮

Monday, April 30, 2018

বিদ্যুৎ আনতে অসম থেকে রাজস্থানে পাড়ি সুপ্রভা সাঁওতাল ও সীমা দাসের।


গত রবিবার ২৯/০৪/২০১৮ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছেন, দেশের সব গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে গিয়েছে। তার পর দিনই ওএনজিসি জানাল, সন্ধ্যা হলেই অসমের কাছাড় জেলার নারায়ণপুর বস্তি ডুবে যায় অন্ধকারে। রাস্তাঘাটের চিহ্নমাত্র নেই। এই গ্রামে সৌরবাতি জ্বালানোর চেষ্টায় তাই ওএনজিসিই রাজস্থানের বেয়ারফুট কলেজের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
বেয়ারফুট (খালি পা)! কলেজের নামটি যেমন অদ্ভুত, তেমনি কাজের ধরনও আলাদা। শুধু ঘরে ঘরে সোলার প্যানেল ও বাল্‌ব দিয়ে দায় সারার পক্ষপাতী নন এর ডিরেক্টর রবীন্দ্র নাথ। প্রকল্পের স্থায়িত্বের কথা ভেবে এলাকায় খালি পায়ে চলতে বাধ্য হন, এমন মহিলাদের আগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে তাঁদের তত্ত্বাবধানেই চলে প্রকল্পের কাজ।
আজই নারায়ণপুর বস্তি থেকে রাজস্থানের তিলোনিয়ার উদ্দেশে রওনা দিলেন সুপ্রভা সাঁওতাল ও সীমা দাস। দুজনেরই পড়াশোনা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। কিন্তু রবীন্দ্রর দাবি, এই দুজনই টেকনিশিয়ান হয়ে ফিরবেন ছমাসে। তাঁদের সামনে রেখেই বস্তির ১০০ ঘরে একটি করে সৌর প্যানেল, ব্যাটারি, চার্জ কন্ট্রোল, চার্জার, সৌর-লণ্ঠন ও ৪টি করে বাল্‌ব দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে সৌরবাতি জ্বালাতে কোনও সমস্যা দেখা দিলে সুপ্রভা-সীমাই সমাধান বাতলে দেবেন।
এই প্রকল্পের পুরো অর্থ জোগাচ্ছে ওএনজিসি। কাছাড় প্রকল্পের তিন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ডিএইচ জংলি, পি অরুমুগম ও রাজেন্দ্র প্রসাদ বলেন, নারায়ণপুর বস্তির কাছেই তাদের ড্রিলিং চলছে। আসতে-যেতে গ্রামটির দুরবস্থা দেখে সৌরবাতির এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। তাঁদের আশা, আগামী নয় মাসে ওই গ্রামে আলো জ্বলবে। এই ‘পাইলট প্রোজেক্ট’-এ সাফল্য মিললে কাছাড়ের বিদ্যুৎহীন অন্য গ্রামেও আলো জ্বালানোর চেষ্টা করবে ওএনজিসি।
প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাতযা-ই হোক, বেয়ারফুট কলেজের ডিরেক্টর রবীন্দ্র তাঁদের প্রাথমিক সমীক্ষার উল্লেখ করে জানাচ্ছেন, অসমের এই জেলায় অন্তত ৫০টি গ্রামে আজও বিদ্যুৎ নেই।
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, ১ মে, ২০১৮

কর্মবিরতি উঠে যাওয়ায় হাইকোর্টে ডিএ মামলার শুনানি দ্রুত করার উদ্যোগ


সোমবার (৩০/০৪/২০১৮) থেকে হাইকোর্টের আইনজীবীদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত মামলাটির শুনানি ফের শুরু করার তৎপরতা আরম্ভ হয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ হাইকোর্টে বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্ত ও বিচারপতি শেখর বি শরাফের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শেষ শুনানি হয়েছিল। পরবর্তী শুনানির দিন ছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮। ওইদিন থেকেই কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীদের কর্মবিরতি শুরু হয়। এই মামলার অন্যতম আবেদনকারী কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুনানি শুরু করার জন্য আইনজীবীদের সঙ্গে তাঁরা আলোচনা করেছেন। ডিভিশন বেঞ্চে ‘মেনশন’ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুনানির দিন চাওয়া হবে।
গত ডিসেম্বর মাস থেকে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে ডিএ মামলার নিয়মিত শুনানি হচ্ছিল। আইনজীবীদের কর্মবিরতি শুরু হওয়ার পর কিছুদিন প্রতিদিনের মামলার তালিকায় (কজ লিস্টে) ডিএ মামলাটির উল্লেখ থাকত। পরে অবশ্য শুনানি বন্ধ থাকায় তালিকায় কোনও মামলারই উল্লেখ থাকত না। নতুন করে মামলাটি শুরু করার জন্য ‘মেনশন’ করার আগে বিপক্ষের আইনজীবীকে নোটিস দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সেই নোটিস আজ, সোমবার রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে দেওয়া হবে। এরপর মঙ্গলবার ডিভিশন বেঞ্চের কাছে ‘মেনশন’ করে শুনানির দিন চাইবেন মামলাকারীরা।
ডিএ মামলার শুনানি হাইকোর্টে চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে এসেছে। মামলাকারী সরকারি কর্মী সংগঠনের তরফে ডিভিশন বেঞ্চের কাছে বক্তব্য পেশ করা হয়েছে। শেষ শুনানির দিন রাজ্য সরকারের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর ঘোষ সওয়াল করছিলেন। কী আইনি ভিত্তিতে ‘স্যাট’ সরকারি কর্মীদের ডিএ দেওয়ার বিষয়টি রাজ্য সরকারের ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে বলে রায় দিয়েছিল, তা আদালতের কাছে ব্যাখা করার জন্য ওইদিন নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। দু’দিন পর অর্থাৎ ১৫ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করতে চেয়েছিলেন বিচারপতি। কিন্তু সরকারের তরফে ১৯ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন চাওয়া হয়। কিন্তু ওইদিন থেকে আইনজীবীদের কর্মবিরতি শুরু হয়ে যাওয়ায় শুনানি আর হয়নি।
রাজ্য সরকারি কর্মীমহল হাইকোর্টে ডিএ মামলাটির কী হয়, সেদিকে তাকিয়ে আছে। সরকারি কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের থেকে ৪৫ শতাংশ কম হারে ডিএ পাচ্ছেন তাঁরা। অন্য রাজ্য সরকারগুলিও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সমান বা কাছকাছি হারে ডিএ দিচ্ছে।
সৌজন্য – বর্তমান পত্রিকা, ৩০/০৪/২০১৮।

ডাইন সন্দেহে আদিবাসী দিদি ও ভাইকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ পূর্ব বর্ধমান জেলায়।


ডাইনি অপবাদে একই পরিবারের দুজনকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানার নেওড় গ্রামে। পুলিশের দাবি, সম্পর্কে দিদি ও ভাইকে খুন করে তাঁদের দেহ প্রথমে ঘটনাস্থলের কাছেই পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশকর্মীরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে বাসিন্দাদের একাংশের বাধার মুখে পড়ে। পরে বিডিও এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললেও দেহ দুটির সন্ধান মেলেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, নেওড়ের পাশের গ্রামের এক বাসিন্দা থানায় লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, মাকু বাস্কে (৬৫) ও তাঁর ভাই মঙ্গল মান্ডিকে (৬০) মঙ্গলবার ভোরে ঘটনাস্থল থেকে চার কিলোমিটার দূরে দামোদরের চরে দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিহতদের বাড়ি আরুই গ্রাম পঞ্চায়েতের নেওড় গ্রামের দিঘিরপাড়ে। স্থানীয় সূত্রে ডাইন অপবাদের কথা উঠে এলেও তা সরাসরি মানতে চায়নি জেলা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বর্ধমান সদর) প্রিয়ব্রত রায় বলেন, ‘‘ওই দুজনের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ) এলাকায় তদন্ত করছেন।
অভিযোগ, মাকু ও মঙ্গলকে সোমবার রাত আটটা নাগাদ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান গ্রামেরই কিছু লোক। তারপর ফাঁকা মাঠে ৪০-৫০ জন মিলে তাঁদের পিটিয়ে মারে। তার পর ওই মাঠেরই একটি জায়গাতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। সেই খবর পেয়ে মাধবডিহি থানার পুলিশ দফায় দফায় গ্রামে গেলেও ভিতরে ঢুকতে পারেনি। বিডিও (রায়না ২) দীপ্যময় মজুমদার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, “গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা মুখ খুলতে চাননি। সে জন্য পুলিশকে তদন্ত করতে বলেছি।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই এলাকায় ৮০ ঘর আদিবাসী পরিবারের বসবাস। মৃতদের এক ভাইপোর স্ত্রী গত ৬ মাস ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। সোমবার তাঁকে নিয়ে একটি ট্রাক্টরে করে পরিজন ও পড়শিরা জামালপুরের রুক্মিনীতলায় এক ওঝার কাছে যান। ওই ওঝা দাবি করে, মাকু ও মঙ্গল ডাইন। তাঁদের জন্যই ওই বধূর শরীর এত খারাপ থাকছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ গ্রামে ফিরে আসেন। মৃতদের আর এক ভাইপো গুরুপদ মান্ডির দাবি, “গ্রামে বিষয়টি ছড়িয়ে যাওয়ার পরে কয়েক জন মিলে কাকা ও পিসিকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানেই ডাইন অপবাদে পিটিয়ে মারা হয়। আমরা কয়েক জন প্রতিবাদ করলে আমাদের ঘরে ঢুকিয়ে তালা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল।
যদিও পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের বিদায়ী সভাপতি দেবু টুডুর দাবি, “আর যাই হোক ডাইনি অপবাদে এ রকম ঘটনা ঘটেনি। আমরা গত কয়েক বছরে এই অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার করেছি। তাতে ফলও হয়েছে।
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮।