Tuesday, December 5, 2017

আদিবাসী যুবক মতিলাল বাস্কের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে এক সঙ্গে ধরনায় হেমন্ত সরেন ও বাবুলাল মারান্ডি।


আদিবাসী যুবক মতিলাল বাস্কে কে মিথ্যা মাওবাদী তকমা দিয়ে ঝাড়খণ্ড পুলিশ গুলি করে খুন করার অভিযোগে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ও ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চা আন্দোলনে নামল।
গত ৯ ই জুন, ২০১৭ ঝাড়খণ্ড এর পিড়টাড় ব্লক, গিরিডি তে ঝাড়খণ্ড পুলিশ এক নিরীহ আদিবাসী যুবক মতিলাল বাস্কে কে মাওবাদী তকমা দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ জানিয়েছেন খোদ ঝাড়খণ্ড বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও প্রাত্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার এই শীর্ষ নেতা নিজের বাসভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলন অভিযোগ করেন যে যাকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ মাওবাদী সন্দেহে গুলি করে মেরেছে, সেই মতিলাল বাস্কে একজন সাধারণ আদিবাসী কৃষক ও চা বিক্রেতা। হেমন্ত সরেন উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে মৃত মতিলাল বাস্কে এর বিধবা ও তিন নাবালক শিশুকে উপস্থিত করেন। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার শীর্ষ নেতা হেমন্ত সরেন মৃত মতিলাল বাস্কের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবার জন্য ঝাড়খণ্ড সরকারের কাছে দাবী জানান। এই ঘটনার প্রতিবাদে পিড়টাড় ব্লকে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা গত ১৭ ই জুন, ২০১৭ বনধের ডাক দেয়। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার শীর্ষ নেতা হেমন্ত সরেন আরও অভিযোগ করেন যে রঘুবর দাস এর নেতৃত্বাধীন ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সরকার এর পুলিশ মাওবাদী দমনের নামে নিরীহ আদিবাসীদের খুন ও মহিলাদের রেপ করছে। যদিও এডিজি (অপারেশেন) আর কে মালিক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান যে পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াই এ মতিলাল বাস্কের মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার রেশ টেনে গত ৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ আবারও আন্দোলনে নামে ঝাড়খণ্ড মুক্তি । এবার ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সঙ্গী হয়েছে ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চা। আদিবাসী যুবক মতিলাল বাস্কের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে এক সঙ্গে ধরনায় বসলেন ঝাড়খণ্ডের দুই প্রাত্তন মুখ্যমন্ত্রী ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার শীর্ষ নেতা হেমন্ত সরেন ও ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চার কেন্দ্রীয় সভাপতি বাবুলাল মারান্ডি।

রাঁচি বিধানসভা কেন্দ্রে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার উদ্যোগে একদিবসীয় নিসুল্ক চিকিৎসা শিবির।


১৫ দফা দাবীতে ইটাহার ব্লকে আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযান (Adivasi Sengel Abhijan) এর ডেপুটেশন।



গত ০৪/১২/২০১৭ (সোমবার) আদিবাসী সমাজের বিভিন্ন দাবী দাওয়া নিয়ে ইটাহার ব্লকে বিডিও এর কাছে ডেপুটেশন দিল সালখান মুরমুর হাতে গড়া সংগঠন আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযান (ইটাহার ব্লক কমিটি)।
দাবীগুলি – 
  1. সাঁওতাল অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে ICDS সেন্টারে সাঁওতালী ভাষায় পঠন পাঠনের ব্যবস্থা করতে হবে,
  2. আদিবাসীদের জমি জমা আদিবাসী ছাড়া হস্তান্তর করা বন্ধ করতে হবে এবং অবৈধ ভাবে ভুমি দস্যুদের কবলে থাকা জমি উদ্ধার করে আদিবাসীদের হাতে ফেরত দিতে হবে,
  3. শিশু ও নারী নির্যাতন বন্ধ করতে হবে এবং পাশবিক অত্যাচারী দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে,
  4. প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা আবাস যোজনা ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রদানের ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে,
  5. আদিবাসী গ্রামগুলিতে শৌচাগার নির্মাণ অসম্পূর্ণ রেখে কাজ বন্ধ করা হল কেন?
  6. শিক্ষিত যুবক যুবতীদের স্বনির্ভর করতে লোন প্রদান করতে হবে,
  7. আদিবাসী শংসাপত্র (Caste Certificate) পাবার ক্ষেত্রে আদিবাসীদের হায়রানি বন্ধ করতে হবে ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ক্যাম্প করে Caste Certificate প্রদান করতে হবে,
  8. ইটাহার ব্লকে ১৮% সাঁওতালী ভাষাভাষী মানুষ থাকতেও অফিসগুলিতে বাংলা বলতে বাধ্য করা হচ্ছে কেন?
  9. আদিবাসী গ্রামগুলিতে এখনো রাস্তা কাঁচা কেন?
  10. প্রতিটি গ্রামগুলিতে স্বাস্থ্যসম্মত পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হবে,
  11. শিশই গ্রামে লদ মুরমুর রায়ত জমিতে জোরপূর্বক নির্মাণ বন্ধ করতে হবে ও পুলিশকে বার বার জানানো সত্ত্বেও নির্মাণ বন্ধ হচ্ছে না কেন?
  12. বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা থেকে বঞ্চিতদের প্রত্যেকে ভাতা প্রদান করতে হবে,
  13. আদিবাসীদের উপাসনাস্থল “জাহের থান ও মাঝি থান” সরকারি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রেকর্ড করা হচ্ছে না কেন?
  14. সাঁওতালী ভাষার পৃথক বোর্ড ও সাঁওতালী ভাষার অলচিকি লিপিতে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে পঠন পাঠন চালু করতে হবে,
  15. বিবিধ। 
ডেপুটেশন জমা দেবার পর আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযানের নেতৃবৃন্দ জানান যে যদি তাদের দাবিদাওয়া না মানা হয় তাহলে আগামী দিনে তাঁরা বৃহত্তরও আন্দোলন গড়ে তুলবেন। 

সামনে ভোট, গ্রাম উন্নয়নে জোর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

সামনে ভোট, গ্রাম উন্নয়নে জোর মমতার।
৫ ডিসেম্বর, ২০১৭।

পাখির চোখ যে আপাতত পঞ্চায়েত ভোটই, সোমবার নবান্নে পর্যবেক্ষণ বৈঠকে তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন আবার জানিয়ে দেন, রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে সরকার ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ করবে। ‘‘১৫ ডিসেম্বরের পরেও পরিকল্পনা খাতের যে-টাকা বিভিন্ন দফতরের কাছে রয়ে যাবে, সরকার তা ফেরত নিয়ে নেবে। ওই টাকার ২৫% গ্রামীণ রাস্তা ও পানীয় জল সরবরাহে খরচ করা হবে,’’ নবান্ন সভাঘরে সব দফতরের মন্ত্রী, সচিব ও আধিকারিকদের নিয়ে পর্যবেক্ষণ বৈঠকের পরে বলেন মমতা। গ্রামের এই উন্নয়ন কর্মসূচির মধ্যে সড়ক থেকে পানীয় জল থেকে স্বাস্থ্য সবই যে পড়বে, তা স্পষ্ট করে দেন মমতা।
সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। মূলত সে-দিকে তাকিয়েই মুখ্যমন্ত্রী গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নে অধিক গুরুত্ব আরোপ করতে চাইছেন বলে মনে করছেন প্রশাসনের একাংশ। রাস্তা ও জল সরবরাহের বিষয়ে বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও অতিরিক্ত অর্থ খরচ করবে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘১২০০ কোটি টাকা খরচ করা হবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির উন্নয়নে।’’ তিনি জানান, সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৯০০ কোটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। মমতা বলেন, ‘‘২০১৬-য় পরিকল্পনা খাতে আমাদের খরচ ছিল ৩৬ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। আর চলতি বছরে ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হয়ে গিয়েছে।’’ পরিকল্পনা করে কাজ করলে যে সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকা যায়, এ কথা অনেক বারই শোনা গিয়েছে মমতার মুখে। এ দিনও তিনি বলেন, ‘‘পাঁচ, দশ, পনেরো ও কুড়ি বছরের পরিকল্পনা করেই এগোচ্ছি আমরা।’’ অনেক ক্ষেত্রে কেন্দ্র টাকা আটকে রাখলেও রাজ্য সরকার যে নিজের কোষাগারের টাকা খরচ করে উন্নয়ন চালু রেখেছে, সেটা আরও এক বার মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘এ বছরের ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রের কাছে আমাদের বকেয়া রয়েছে ১৩ হাজার ৭১৪ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা। ১০০ দিনের কাজে ১৪৭০ কোটি, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪৮৮৭ কোটি, স্বচ্ছ ভারত মিশনে ৭০০ কোটি, অনগ্রসর এলাকা উন্নয়ন খাতে ২৩৩০ কোটি, শিক্ষকদের বেতন বাবদ ২০০০ কোটি, গ্রামীণ জল পরিষেবায় ৪০০ কোটি, সকলের জন্য ঘর প্রকল্পে ৪৫৯ কোটি, ছিটমহল হস্তান্তর বাবদ ৫৯০ কোটি এবং রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনায় ১১৭ কোটি টাকা পড়ে রয়েছে কেন্দ্রের ঘরে। তবে উন্নয়নের কাজ আশানুরূপ না-হওয়ায় কয়েকটি দফতরের মন্ত্রী ও সচিবেরা মুখ্যমন্ত্রীর অসন্তোষের মুখে পড়েন। সেই তালিকায় রয়েছে দমকল, কৃষি বিপণন, পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, মৎস্য, সুন্দরবন উন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষা। এই সব দফতর বরাদ্দ টাকার অর্ধেকও খরচ করতে পারেনি বলে নবান্ন সূত্রের খবর।
সৌজন্য - আনন্দবাজার পত্রিকা, ০৫/১২/২০১৭।

বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত আদিবাসী শবরদের আইনি সাহায্য দিতে কেন্দ্র চালু।


মানবাজার, পুরুলিয়া, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৭।

যে আদিবাসী শবরদের নাম পুলিশি খাতায় রয়েছে, সমাজের মূল স্রোতে ফেরাতে তাঁদের আইনি সহায়তা দিতে আইনি সহায়তা কেন্দ্র চালু হল। রবিবার কেন্দা থানার রাজনোয়াগড় গ্রামে পশ্চিমবঙ্গ শবর খেড়িয়া কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে একটি আইনি সহায়তা কেন্দ্র চালু হয়েছে। শবরদের পাশে নিয়ে এ দিন সিআই (মানবাজার) সুবীর কর্মকার সেটির উদ্বোধন করেন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দা থানার ওসি শেখর মিত্র ও সমিতির কর্মকর্তারা।
এলাকায় কোথাও অপরাধ ঘটলেই শবরদের খোঁজ পড়ত। পুলিশ গাড়ি গ্রামে ঢুকলেই শবর পুরুষেরা গ্রাম ছাড়া হতেন। আড়াই দশক আগেও ছবি এ রকমের ছিল। এখন অবশ্য অনেকটাই বদলেছে। পশ্চিমবঙ্গ খেড়িয়া শবর কল্যাণ সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় ১২,২৭০ জন শবর রয়েছেন। যুবকেরা কাজের জন্য পাড়ি দিচ্ছেন ভিন রাজ্যে। কেউ আবার সমিতির সহায়তায় চাষ করে অবস্থার উন্নতি করেছেন। শবর জনজাতির মধ্যে শিক্ষার হার এখনও শতাংশের হিসাবে আসে না। তবে শিক্ষার প্রসারের চেষ্টা চলছে। এখন বইখাতা নিয়ে গ্রামের স্কুলে যায় শবর শিশুরা।
শবর সমিতির সভাপতি জলধর শবর, পরিচালক প্রশান্ত রক্ষিতরা বলেন, ‘‘বিভিন্ন এলাকা থেকে শবর মহিলা পুরুষেরা সমিতির অফিসে আসেন। কারও রেশন কার্ড নেই, কারও আধার কার্ড হয়নি। আজকাল এমন লোকজনের সংখ্যাটা বেশ বেড়ে গিয়েছে। খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি, অনেকেই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে বসবাস করছেন।’’ সমিতি খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, বরাবাজার থানার বাগালবাঁধ গ্রামের এক শবর বাসিন্দার নামে ডাকাতির মামলায় হুলিয়া রয়েছে। প্রায় চার বছর নাম ভাঁড়িয়ে তিনি বসবাস করছেন অন্য গ্রামে। এ দিকে গ্রাম ছাড়া হওয়ায় সরকারি নানা প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন ওই ব্যক্তি। সমিতি ঠিক করেছে, যাঁরা অপরাধ ছেড়ে দিয়ে সুস্থভাবে জীবন যাপন করতে চান, তাঁদের জন্য আইনজীবী বহাল করে মামলার নিস্পত্তি করার ব্যবস্থা হবে। সুস্থ ভাবে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া হবে। এই জন্যই আইনি সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে বলে তাঁরা জানান।
সমিতির কর্মকর্তারা জানান, শবররা চট করে এক জায়গায় থিতু হতেন না। ইদানীং সেই পরিস্থিতিটাও বদলাতে শুরু করেছে। গত দু’-তিন দশকের মধ্যে ছবিটা অনেকটাই পাল্টেছে বলে তাঁদের দাবি। গ্রামে থিতু হয়ে চাষ আবাদ বা দিনমজুরি করে সংসার প্রতিপালন করছেন অনেক শবর। কেউ বাইরে কাজ করে সংসারে টাকা আনছেন।
শবর উন্নয়নে রাজ্য সরকারের কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে।  তাহলে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র বাস করার প্রবণতা বাড়ছে কেন?
প্রশান্ত রক্ষিত বলেন, ‘‘কয়েক দশক আগে যাঁরা বিভিন্ন মামলায় জড়িয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকের নামে ওয়ারেন্ট রয়েছে। ওয়ারেন্ট এড়ানোর জন্যে গ্রাম ছাড়া অন্যতম কারণ। যে কারণে তাঁরা রেশন কার্ড, আধার কার্ড বা অন্য সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন না।’’
জলধর শবর বলেন, ‘‘আগে কেউ কেউ বিভিন্ন অপরাধে শবরদের ব্যবহার করতেন। পরবর্তী কালে সমিতির সংস্পর্শে এসে তাঁরা নিজেদের বদলে ফেলেছেন। কিন্তু আগের অপরাধ জনিত মামলার নিস্পত্তি না হওয়ায় তাঁরা সমাজে সুষ্ঠু ভাবে থিতু হতে পারছেন না। এমনকি ৩৫ বছর বয়সে যে যুবক  অপরাধে জড়িয়েছিলেন এখন ৬৫ বছর বয়স হলেও তাঁকে লুকিয়ে থাকতে হচ্ছে।  আবার মিথ্যা মামলায় অনেককে জড়ানো হয়েছিল। ওই অভিযোগ যে মিথ্যে সেটা প্রমাণ করার জন্যে তো হাজিরা দিতে হবে। অনেকেই ভয়ে সেটা করেন না। ফলে জটিলতা বাড়ে।’’
কতজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে? নির্দিষ্ট সংখ্যা না হলেও প্রশান্তবাবু জানিয়েছেন, পুরুলিয়া আদালতে এক আইনজীবী শবরদের জন্যে প্রায় বিনা খরচে মামলা লড়েন। তাঁর সেরেস্তাতেই এই ধরণের মামলা রয়েছে ৩০৭টি। তাঁরা জানান, আইনি সহায়তা কেন্দ্রের জন্য সমিতির সঙ্গে মুম্বইয়ের টাটা ট্রাস্টের চুক্তি হয়েছে। মামলায় জড়িত শবরদের তাঁরা এক বছরের জন্য, আপাতত ২০টি মামলার খরচ জোগাবেন। সমিতির কার্যকলাপ দেখে চুক্তির মেয়াদ ধাপে ধাপে আরো বাড়ার আশ্বাস মিলেছে।
পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাস বলেন, ‘‘রবিবার কেন্দার রাজনোয়াগড় গ্রামে শবর সমিতির অফিসে একটি আইনি সহায়তা কেন্দ্র চালু হয়েছে। যে সব শবরদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে আমাদের আশা এই কেন্দ্রের মাধ্যমে তাঁদের মামলার নিস্পত্তি হবে। সমাজের মূল স্রোতে ফেরাটা সহজ হবে।’’
সৌজন্য - সমীর দত্ত, আনন্দবাজার পত্রিকা, ০৫/১২/২০১৭।

পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায় নতুন গ্রামীণ সড়কে সবুজ সঙ্কেত।

৫ ডিসেম্বর, ২০১৭।

প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় প্রচুর রাস্তা তৈরির অনুমোদন পেল জঙ্গলমহলের দুই জেলা। প্রশাসন সূত্রে খবর, দুই জেলায় সব মিলিয়ে প্রায় ১,১০০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির অনুমোদন মিলেছে। সেই মতো পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের প্রায় সব ব্লকেই রাস্তা তৈরি হবে। রাস্তা তৈরির তোড়জোড়ও শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকটি রাস্তার ক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শৈবাল গিরি বলেন, “গ্রাম সড়ক যোজনায় রাস্তা তৈরির নির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। দুই জেলায় প্রায় ১,১০০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির অনুমোদন মিলেছে। কাজ শুরু হবে।’’ জঙ্গলমহলের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের বহু রাস্তার অবস্থাই জীর্ণ। বেহাল রাস্তায় ভোগান্তিতে পড়েন পথচলতি সাধারণ মানুষ। ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার। অন্তত পাঁচশো বা তার বেশি জনসংখ্যার সব জনপদের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রাথমিক ভাবে কেন্দ্রের ১০০ শতাংশ আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি চালু হয়েছিল। শর্ত ছিল, রাস্তা তৈরি হলে তার রক্ষণাবেক্ষণ করবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকার। প্রশাসনের এক কর্তা জানান, শুরুতে পুরো টাকা দিলেও ধাপে ধাপে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে দেয় কেন্দ্র। শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদীর সরকার জানিয়ে দেয়, গ্রামের রাস্তা তৈরির এই প্রকল্পে কেন্দ্র দেবে ৬০ শতাংশ অর্থ। বাকি ৪০ শতাংশ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে।
এক সময়ে এই প্রকল্পে বরাদ্দের জন্য লড়াই করতে হত জেলাকে। বছর কয়েক হল বরাদ্দের পর বরাদ্দ জুটেছে। আর তা বাস্তবায়িত করতে হিমশিম খেতে হয়েছে প্রশাসনকে। কেমন? ২০০০ থেকে ২০১১ পর্যন্ত অর্থাৎ ১১ বছরে এই প্রকল্পে জেলা রাস্তা তৈরির বরাত পেয়েছিল মাত্র ১৭৬৪ কিলোমিটার। সড়ক যোজনায় রাস্তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বঞ্চনার অভিযোগে সোচ্চার হত জেলার বিভিন্ন ব্লক। বরাদ্দ কম আসায় সব ব্লকে চাহিদা অনুযায়ী রাস্তার বরাত দেওয়া সম্ভব হত না। পরে পরে পরিস্থিতি বদলায়। ২০১২-২০১৩ আর্থিক বছরে এই প্রকল্পে একলাফে জেলাকে ১৫১০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। ২০১৩- ২০১৪ আর্থিক বছরে ফের ৯৩০ কিলোমিটার রাস্তার বরাত এসে হাজির হয়। কী ভাবে এত রাস্তার কাজ শেষ করা যাবে তা নিয়ে মাথায় হাত পড়ে প্রশাসনিক কর্তাদের। পরে জেলায় বৈঠক করে পরিকল্পনা মতো কাজ এগোনো হয়।
প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় এ বার ১,৮০০ কিলোমিটার রাস্তা করতে চেয়ে দুই জেলা প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। রাজ্যের মাধ্যমে কেন্দ্রের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়। এ জন্য ডিপিআর (ডিটেলস প্রোজেক্ট রিপোর্ট) তৈরি হয়। জেলার এক পূর্ত কর্তা মানছেন, “গ্রাম সড়ক যোজনায় পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে এ বার ১,৮০০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই মতো নির্দিষ্ট প্রস্তাবও পাঠানো হয়।’’ শেষমেশ প্রায় ১,১০০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির অনুমোদন মিলেছে। অবশ্য গত আর্থিক বছরে যে সব রাস্তার জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল, তার একাংশের কাজই এখনও শেষ হয়নি। কয়েকটির গতি শ্লথ। পশ্চিম মেদিনীপুরের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শৈবাল গিরির আশ্বাস, “কিছু রাস্তার কাজ চলছে। নজরদারি রাখা হয়েছে। মার্চের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।’’
সৌজন্য – আনন্দবাজার পত্রিকা, ০৫/১২/২০১৭।

অভাবের জেরে বেতারে অডিশন অনিশ্চিত দৃষ্টিহীন সুকদেব পাতরের।

সৌজন্য - সংবাদ প্রতিদিন, ০৫/১২/২০১৭।